30 Aug 2024

**শীর্ষ ১০ স্বাস্থ্যকর খাবার যা আপনার খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত**





সুস্থ জীবনযাপন করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগ প্রতিরোধ করতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাবার আমাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে, শক্তি বাড়ায়, এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে। নিচে স্বাস্থ্যকর শীর্ষ ১০টি খাবারের একটি তালিকা দেওয়া হলো, যা আপনি আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। 

 ### ১. **সবুজ পাতা জাতীয় শাকসবজি** সবুজ পাতা জাতীয় শাকসবজি যেমন পালং শাক, কেল, এবং পুঁই শাক পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। এগুলো ভিটামিন এ, সি, কে, এবং ফলেট সহ আয়রন ও ক্যালসিয়াম সরবরাহ করে। সবুজ শাকসবজি আঁশ সমৃদ্ধ, যা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং আপনাকে দীর্ঘ সময় ধরে পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। **কিভাবে খাবেন:** সালাদ, স্মুদি, স্যুপে মিশিয়ে বা সাইড ডিশ হিসেবে রান্না করে খান। 

 ### ২. **বেরি ফল** বেরি ফল, যেমন ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি, রাস্পবেরি এবং ব্ল্যাকবেরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং আঁশে সমৃদ্ধ। বেরি ফলের অ্যান্থোসায়ানিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বয়সের প্রভাব কমাতে এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি বেরি ফলের গ্লাইসেমিক সূচক কম, যা রক্তে শর্করার স্তর নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। **কিভাবে খাবেন:** টাটকা বেরি ফল স্ন্যাক হিসেবে খান, দই বা ওটমিলের সঙ্গে মিশিয়ে, বা স্মুদিতে ব্যবহার করুন। 

 ### ৩. **চর্বিযুক্ত মাছ** স্যালমন, ম্যাকারেল, সার্ডিন, এবং ট্রাউটের মতো চর্বিযুক্ত মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের দারুণ উৎস। ওমেগা-৩ আমাদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং প্রদাহ হ্রাস করে। এছাড়াও, চর্বিযুক্ত মাছ প্রোটিন, ভিটামিন ডি এবং বি ভিটামিন সরবরাহ করে। নিয়মিত চর্বিযুক্ত মাছ খেলে হৃদরোগ, বিষণ্ণতা এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী রোগের ঝুঁকি হ্রাস পেতে পারে। **কিভাবে খাবেন:** গ্রিল, বেক বা ব্রয়ল করে চর্বিযুক্ত মাছ খান, অথবা ক্যানড মাছ সালাদে মিশিয়ে বা স্যান্ডউইচে ব্যবহার করুন।
m
 ### ৪. **বাদাম ও বীজ** বাদাম ও বীজ যেমন আমন্ড, আখরোট, চিয়া বীজ, ফ্ল্যাক্সসিড এবং সূর্যমুখী বীজ পুষ্টির আধার। এগুলো স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, আঁশ এবং বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সরবরাহ করে। বিশেষ করে আখরোটে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে এবং চিয়া ও ফ্ল্যাক্সসিডে আঁশ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। নিয়মিত বাদাম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত হয়। **কিভাবে খাবেন:** কাঁচা বাদাম খান, সালাদ বা ওটমিলে মিশিয়ে, বা স্মুদিতে ব্যবহার করুন। 

 ### ৫. **সম্পূর্ণ শস্য** কোয়িনোয়া, ব্রাউন রাইস, ওটস, এবং বার্লির মতো সম্পূর্ণ শস্য জটিল শর্করা, আঁশ, এবং বি ভিটামিন, আয়রন ও ম্যাগনেসিয়াম সরবরাহ করে। পরিশোধিত শস্যের তুলনায়, সম্পূর্ণ শস্যের মধ্যে ব্র্যান এবং জার্ম থাকে, যা পুষ্টির মান বাড়ায়। সম্পূর্ণ শস্য নিয়মিত খেলে হৃদরোগ, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে, পাশাপাশি হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়। **কিভাবে খাবেন:** সম্পূর্ণ শস্যকে প্রধান খাবারের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করুন, সালাদে মিশিয়ে, বা সাইড ডিশ হিসেবে রান্না করে খান।

 ### ৬. **ডাল** মসুর, মটরশুটি, ছোলা ইত্যাদি ডালে প্রচুর পরিমাণে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, আঁশ, আয়রন এবং ফলেট থাকে। এরা চর্বি কম এবং ধীর গতিতে হজম হওয়া শর্করা সরবরাহ করে, যা শক্তি বৃদ্ধি করে এবং রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। ডালের উচ্চ আঁশ কোলেস্টেরল কমাতে এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে। **কিভাবে খাবেন:** স্যুপ, স্ট্যু, সালাদে ডাল মেশান, বা নিরামিষ প্রোটিনের প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহার করুন। 

 ### ৭. **এভোকাডো** এভোকাডো একটি অনন্য ফল, যা স্বাস্থ্যকর মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটে সমৃদ্ধ। এই ফ্যাট হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং প্রদাহ হ্রাস করতে সহায়ক। এভোকাডোতে আঁশ, পটাশিয়াম, এবং ভিটামিন কে, ই, এবং সি পাওয়া যায়। এভোকাডো অন্যান্য খাবার থেকে ফ্যাটে দ্রবণীয় ভিটামিন শোষণেও সাহায্য করে। **কিভাবে খাবেন:** এভোকাডো টুকরো সালাদে মিশিয়ে, টোস্টে মাখিয়ে, বা স্মুদিতে মিশিয়ে খান। 

 ### ৮. **ক্রুসিফেরাস শাকসবজি** ব্রকলি, ফুলকপি, ব্রাসেলস স্প্রাউটস, এবং বাঁধাকপির মতো ক্রুসিফেরাস শাকসবজি পুষ্টিকর, আঁশ, এবং ভিটামিন সি, কে, এবং ফলেট সরবরাহ করে। এই শাকসবজিগুলিতে গ্লুকোসিনোলেট নামক উপাদান রয়েছে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। এদের উচ্চ আঁশ হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়। **কিভাবে খাবেন:** স্টিম, রোস্ট, বা স্টার ফ্রাই করে সাইড ডিশ হিসেবে বা সালাদ ও স্যুপে মিশিয়ে খান। 

 ### ৯. **মিষ্টি আলু** মিষ্টি আলু বিটা-ক্যারোটিনের সমৃদ্ধ উৎস, যা শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। ভিটামিন এ দৃষ্টি শক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। মিষ্টি আলুতে আঁশ, ভিটামিন সি এবং পটাশিয়ামও থাকে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। **কিভাবে খাবেন:** রোস্ট, মাশ, বা বেক করে খান, অথবা স্যুপ ও স্ট্যুতে ব্যবহার করুন।
 ### ১০. **গ্রিক দই** গ্রিক দই প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং উচ্চমানের প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং বি ভিটামিন সরবরাহ করে। সাধারণ দইয়ের তুলনায়, গ্রিক দই এর ঘন টেক্সচার এবং বেশি প্রোটিন রয়েছে। প্রোবায়োটিক অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া ভারসাম্য রক্ষা করে, হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। **কিভাবে খাবেন:** টাটকা ফল এবং বাদামের সাথে গ্রিক দই খান, স্মুদিতে মিশিয়ে, বা ড্রেসিং ও ডিপের বেস হিসেবে ব্যবহার করুন।

 ### উপসংহার এই শীর্ষ ১০ স্বাস্থ্যকর খাবারগুলি আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে আপনার শরীর পাবে প্রচুর পুষ্টি উপাদান, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করবে। আপনি যদি হৃদরোগ প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো বা কেবল আরও শক্তিশালী অনুভব করতে চান, এই খাবারগুলো আপনাকে আপনার স্বাস্থ্য লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। মনে রাখবেন, একটি বৈচিত্র্যময় এবং ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য, নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপের সঙ্গে মিলিয়ে, দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
m

16 Aug 2024

লোভের কারণে দ্বীন ও ইমান ধ্বংস হয়


আমাদের ভেতরে অসীম এক গুহা আছে, সর্বোগ্রাসী লোভ। যা প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা ট্রেঞ্চের চেয়েও সুবিশাল। সব কিছু গোগ্রাসে গিলতে থাকে। লোভ মানুষের অন্তরের মারাত্মক ব্যাধি। অর্থবৃত্ত, যশ-খ্যাতি আর পদের লোভ মানুষের অন্তরের ইমানের রংকে ধূসর করে দেয়। দ্বীনের প্রদীপকে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবের মতো ছিন্নভিন্ন করে, অন্ধকারে ছেড়ে দেয় উদ্বাস্তুর মতো। রাসূল (সা.) বলেছেন, দুটি ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘকে ছাগলপালের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া অত বেশি ধ্বংসকর নয়, যত না বেশি মাল ও মর্যাদার লোভ মানুষের দ্বীনের জন্য ধ্বংসকর।’ (তিরমিজি : ২৩৭৬)। কবি বলেন, ‘সচ্ছলতা হারানোকে দরিদ্রতা ভেব না। বরং দ্বীন হারানোই হলো সবচেয়ে বড় দরিদ্রতা’। সীমাহীন অর্থের লোভ মানুষের বিবেক-বুদ্ধি লোপ পায় এবং দুর্নীতি ও পাপের পথে পরিচালিত করে। প্রাচুর্যের লোভ মানুষকে বিপদের মধ্যে ফেলে। কথায় আছে, লোভে পাপ আর পাপে মৃত্যু। লোভের কারণে মানুষ ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতে অপমানের মুখোমুখি হতে হয়। তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত সৈয়দ আবেদ আলী, মতিউর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম, ডা. সাবরীনা। কবি হুসাইন বিন আব্দুর রহমান বলেন, ‘মাল তোমার কাছে জমা থাকে তার ওয়ারিশদের জন্য। আর ওই মাল তোমার নয়, যতক্ষণ না তুমি তা (আল্লাহর পথে) ব্যয় করবে’। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর তুমি কখনো প্রসারিত কর না তোমার দুচোখ সে সবের প্রতি, যা আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণিকে দুনিয়ার জীবনের জাঁকজমক স্বরূপ উপভোগের উপকরণ হিসাবে দিয়েছি। যাতে আমি সে বিষয়ে তাদের পরীক্ষা করে নিতে পারি। আর তোমার রবের প্রদত্ত রিজিক সর্বোৎকৃষ্ট ও অধিকতর স্থায়ী। (সূরা তাহা আয়াত : ১৩১)। সম্পদের লোভের চেয়ে ভয়াবহ হলো নেতৃত্ব ও মর্যাদার লোভ। নেতৃত্ব ও মর্যাদার লোভে মানুষ দুহাতে মুষলধারে বৃষ্টির মতো অর্থ ব্যয় করে। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সত্বর নেতৃত্বের লোভী হয়ে পড়বে। অথচ সেটি কিয়ামতের দিন লজ্জার কারণ হবে। অতএব, কতই না সুন্দর দুগ্ধ দায়িনী ও কতই না মন্দ দুগ্ধ বিচ্ছিন্নকারিণী’। (বুখারি : ৭১৪৮)। পদপ্রার্থী হয়ে অর্থের বিনিময়ে নির্বাচকদের প্রভাবিত করার ঘটনা নতুন কিছু নয়। পদ পেয়ে অহংকারবোধ এবং মানুষের কাছে প্রশংসা কামনা করে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা তাদের কৃতকর্মের প্রতি খুশি হয় এবং যা তারা করেনি তা নিয়ে প্রশংসিত হতে পছন্দ করে, তুমি তাদের আজাব থেকে মুক্ত মনে কর না। আর তাদের জন্যই রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আজাব।’ (সূরা আল ইমরান আয়াত : ১৮৮)। ভোগবাদী সমাজে একটি কথা প্রচলিত আছে, একদিন তো মরেই যাব, খাও-দাও ফুর্তি কর। জ্ঞান ও আমলের মাধ্যমে মানুষের মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব কামনা। লোভ-লালসাই মানুষকে পরকালের কথা ভুলিয়ে রাখে। আসলেই রং-রসে পূর্ণ পৃথিবীর সফর শেষ হবে মুসাফিরের। তবে আল্লাহভীতি ও পরকালে জবাবদিহিতার ভয় মানুষকে অল্পে তুষ্টি হতে শিখায়। রাসূল (সা.) বলেন, ‘কিয়ামতের দিন আদম সন্তানকে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে এক কদমও নিজের জায়গা থেকে সামনে নড়তে দেওয়া হবে না। তা হলো-তার জীবনকাল কীভাবে অতিবাহিত করেছে, যৌবনের সময়টা কীভাবে ব্যয় করেছে, ধন-সম্পদ কীভাবে উপার্জন করেছে এবং তা কীভাবে ব্যয় করেছে, সে দ্বীনের (ইসলাম) যতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছে সেই অনুযায়ী আমল করেছে কিনা বা কতটুকু করেছে। (তিরমিজি : ২৪১৬)। রাসূল (সা.) দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ! হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি আমাদের দুনিয়াতে মঙ্গল দাও ও আখেরাতে মঙ্গল দাও এবং আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচাও’। (বুখারি : ৪৫২২)। আমাদের লক্ষ্য হোক, পার্থিব লোভমুক্ত জীবন এবং পরকালীন মুক্তি কামনা।





11 Aug 2024

দৈনিক ১০০০ টাকা ইনকাম করার সেরা এবং কার্যকর উপায়



তাহলে চলুন কী কী উপায়ে প্রতিদিন ১০০০ টাকা ইনকাম করা যাবে এ বিষয়ে জেনে নিই। 

১. এফিলিয়েট মার্কেটিং এফিলিয়েট মার্কেটিং হলো এমন একটি ব্যবসায়িক পদ্ধতি যেখানে আপনাকে অন্য প্রতিষ্ঠানের product বা service এর promotion করে তাদের marketing করতে হয়। এভাবে তাদের প্রোডাক্ট বিক্রি করিয়ে দিলে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আপনি কমিশন ইনকাম করতে পারবেন। একজন এফিলিয়েট মার্কেটার হিসাবে আপনাকে যেকোনো একটি এফিলিয়েট প্রোগ্রামে register করতে হবে এবং তাদের বিভিন্ন পণ্য বা পরিষেবার প্রচার করতে হবে। এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে ইনকাম করার বিভিন্ন উপায় আছে। সর্বাধিক সাধারণ পদ্ধতি হলো যেকোনো পণ্য বা পরিষেবার affiliate link প্রচার করে মার্কেটিং করা। যখন কেউ এই লিংক ক্লিক করবে তখন তাকে সেই প্রোডাক্ট পেজে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর পণ্যটি কিনলে আপনি কমিশন পেতে পারবেন। এভাবে প্রতিটি সেল এর জন্য আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা commission পাবেন। আপনি আপনার ওয়েবসাইট, ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল বা পেজ, ইমেইল নিউজলেটার, পেইড বিজ্ঞাপন ইত্যাদি ব্যবহার করে এফিলিয়েট লিংক এর প্রচার করতে পারেন। যদিও এফিলিয়েট মার্কেটিং সহজ নয়, তবে যদি আপনার সোশ্যাল মিডিয়া পেজে প্রচুর audience/followers থাকে অথবা আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগে প্রচুর traffic/visitors থাকে, তাহলে খুব সহজেই affiliate marketing করে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। এফিলিয়েট মার্কেটিং করে প্রতিদিন ১০০০ টাকা বা তার বেশি ইনকাম করা সম্ভব। তবে এজন্য আপনাকে অবশ্যই পরিশ্রম করতে হবে। 
২. ব্লগিং বর্তমানে ঘরে বসে অনলাইনে টাকা ইনকাম করার সবচেয়ে সেরা এবং লাভজনক উপায় হলো ব্লগিং। আজকাল স্টুডেন্ট, চাকরিজীবী সকলেই টাকা ইনকাম করার জন্য দুর্দান্ত মাধ্যমটিকে বেচ্ছে নিচ্ছেন। শুরুর দিকে আপনি পার্ট টাইম ব্লগে লেখালেখি করে ইনকাম করতে পারবেন। যখন আপনার ব্লগে প্রচুর পরিমাণে visitors আসতে শুরু হবে এবং ইনকামের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে, তখন ব্লগিংকে আপনি ফুল টাইম পেশা হিসেবে নিতে পারবেন। ব্লগিং এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখানে আপনি কোনো ধরনের ইনভেস্টমেন্ট ছাড়াই ঘরে বসে প্রতিদিন কয়েক ঘন্টা সময় দিয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। ব্লগিং করে আপনি কত টাকা আয় করা যায় তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। আপনি যতটা সময় এবং শ্রম দিয়ে কাজ করবেন ততটা বেশি ইনকাম আপনি করতে পারবেন। ব্লগিং করে সহজেই প্রতিদিন ১০০০ টাকা ইনকাম করা যায়। ব্লগিং থেকে রোজগার করার জন্য আপনাকে প্রথমে একটি অনলাইন ব্লগ তৈরি করতে হবে। এই কাজটি করার জন্য আপনার ভালো লেখালেখির দক্ষতা থাকার প্রয়োজন হবে৷ এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লেখা শিখতে হবে। যখন আপনার ব্লগে ভালো পরিমাণে ট্রাফিক আসা শুরু হবে, তখন গুগল এডসেন্স অথবা এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনার ব্লগ থেকে আয় করতে পারবেন। 
৩. ডিজিটাল কনটেন্ট রাইটিং কনটেন্ট রাইটিং এর মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন উপায়ে আয় করতে পারেন। যেমন: নিজের ব্লগের কনটেন্ট লেখা, অন্যান্য ব্লগ, ওয়েবসাইট বা অনলাইন ম্যাগাজিনে কনটেন্ট লেখা এবং মার্কেটপ্লেসে কনটেন্ট রাইটিং সার্ভিস করা। একজন কনটেন্ট রাইটার হিসেবে আপনি ঘরে বসে ঘন্টা হিসেবে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। বিশেষ করে স্টুডেন্টদের জন্য অনলাইন ইনকামের সেরা একটি অনলাইন কাজ হলো কনটেন্ট রাইটিং। কনটেন্ট রাইটার হিসেবে কাজ করার জন্য আপনার ইংরেজি এবং অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষাসমূহ জানতে হবে। এছাড়া আপনি চাইলে বাংলাতেও আর্টিকেল লেখার কাজ করতে পারবেন। অনেক বাংলা ব্লগ রয়েছে যেগুলোতে আপনি বাংলা ভাষায় কনটেন্ট লিখে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। মনে রাখবেন, কনটেন্ট রাইটিং এর কাজ করার জন্য আপনার দুর্দান্ত লেখার দক্ষতা থাকতে হবে। আপনার লেখা আর্টিকেল অবশ্যই এসইও ফ্রেন্ডলি হতে হবে। এজন্য আপনি প্রথমে নিজের একটি ব্লগ তৈরি করে সেখানে নিয়মিত আর্টিকেল লিখতে পারেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন আর্টিকেল রাইটিং কোর্স বা কপিরাইটিং কোর্স করে আপনার দক্ষতা বাড়াতে পারেন। যখন আর্টিকেল লেখার সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা আপনার হয়ে যাবে, তখন আপনি বিভিন্ন প্লাটফর্মে কনটেন্ট রাইটার হিসেবে যোগ দিতে পারবেন। কনটেন্ট রাইটিং এর কাজ করে কোনো প্রকার ইনভেস্টমেন্ট ছাড়াই আপনি প্রতিদিন ২০০ থেকে ১০০০ টাকা বা তার বেশি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 
৪. ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক্স ডিজাইন ও প্রোগ্রামিং কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই অনলাইনে প্রতিদিন 1000 টাকা উপার্জন করার একটি দারুণ উপায় হলো ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং প্রোগ্রামিং। এই অনলাইন কাজটির সাথে জড়িত কাজগুলো হলো মনোমুগ্ধকর ডিজাইন তৈরি করা বা ওয়েবসাইটের জন্য কোডিং, লোগো তৈরি, ওয়েবসাইট লেআউট ডিজাইন বা সফটওয়্যার প্রোগ্রামিংয়ের মতো পরিষেবা দেওয়া ইত্যাদি। বর্তমানে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে গ্রাফিক্স ডিজাইন বা প্রোগ্রামিং রিলেটেড কাজগুলোর চাহিদা প্রচুর রয়েছে। তাই আপনার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করার জন্য আপনাকে বিভিন্ন গ্রাফিক্স ডিজাইন অথবা প্রোগ্রামিং সফটওয়্যার যেমন অ্যাডোবি ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর বা এইচটিএমএল এর মতো প্রোগ্রামিং সফটওয়্যারে দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং শক্তিশালী যোগাযোগ দক্ষতা অর্জন করতে হবে। যারা তাদের প্রতিভার মাধ্যমে অনলাইন থেকে অর্থ উপার্জন করতে চাইছেন, তাদের জন্য গ্রাফিক্স ডিজাইন একটি অন্যতম ইনকামের পদ্ধতি। কেননা, একজন দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইনের পক্ষে এই কাজটি করে প্রতি মাসে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা ইনকাম করা সম্ভব। 
৫. ওয়েবসাইট ও ডোমেইন ফ্লিপিং ওয়েবসাইট ও ডোমেইন ফ্লিপিং হলো এমন একটি ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া যেখানে আপনাকে ওয়েবসাইট বা ডোমেইন কিনে তা পরবর্তীতে বিক্রি করতে হয় এবং এখান থেকে আপনি প্রচুর মুনাফা অর্জন করতে পারবেন। আপনি নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন এবং জনপ্রিয় করে তোলার পর সেই ওয়েবসাইট কে বিক্রি করতে পারেন। এছাড়াও নতুন ডোমেইন কিনে বিক্রি করতে পারেন। এজন্য আপনাকে এমন ডোমেইন নেম কিনে রাখতে হবে যেটার দাম ভবিষ্যতে বাড়তে পারে। আর মূল্য বৃদ্ধি পেলে সেটা আপনি বিক্রি করে ইনকাম করতে পারবেন। বর্তমানে আপনি ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে টপ লেভেল কিনতে পারবেন। ওয়েবসাইট ও ডোমেইন ফ্লিপিং এর জন্য আপনি এটি আপনি ওয়েবসাইট বা ডোমেইন ফ্লিপিং সাইট বা প্ল্যাটফর্মে register করতে পারেন যেখান থেকে লোকজন তাদের পছন্দমতো ওয়েবসাইট এবং ডোমেইন কিনে থাকেন। মনে রাখবেন, এই ধরনের ব্যবসায়ে সফলতা অর্জনের জন্য ধৈর্য এবং শেখার ইচ্ছা থাকতে হবে। 
৬. ইউটিউব চ্যানেল বর্তমানে অনলাইন থেকে টাকা রোজগারের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো ইউটিউব। ইউটিউবে যেকেউ নিজের একটি চ্যানেল তৈরি করে সেখানে ভিডিও আপলোড করতে পারেন। ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করার জন্য আপনি যেকোনো ধরনের ভিডিও বানাতে পারেন। তবে, যে বিষয়ে আপনি ভিডিও তৈরি করবেন সেই বিষয়ে মানুষের রুচি থাকতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি বিভিন্ন ধরনের টিউটোরিয়াল ভিডিও বানাতে পারেন। অথবা, আপনি চাইলে খুব সহবেই vlog ভিডিও বানাতে পারেন। যেমন, আপনার চ্যানেলে অধিক subscribers এবং views আসা শুরু হলে আপনি গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে আপনার চ্যানলকে মনিটাইজ করতে পারবেন। এরপর যখন লোকেরা আপনার ভিডিও দেখবে, তখন ভিডিওর শুরুতে এবং মধ্যে তারা গুগল এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন দেখতে পারবেন এবং এর বিনিময়ে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। এছাড়াও যদি আপনার চ্যানেলে হাজার হাজার subscribers থাকে, তাহলে আপনি affiliate marketing, sponsorship ইত্যাদি উপায়ে ইউটিউব থেকে রোজগার করতে পারবেন। কোনো প্রকারের ইনভেস্টমেন্ট ছাড়াই অনলাইনে প্রতিদিন টাকা ইনকামের একটি অন্যতম মাধ্যম হলো ইউটিউব। মজার ব্যাপার হলো, আপনি মোবাইল ফোন দিয়েই ভিডিও বানানো এবং এডিটিং এর কাজ করতে পারবেন। 
৭. অনলাইন টিউটরিং আপনি যদি কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই প্রতিদিন ১০০০ টাকা আয় করার কথা ভাবছেন, তাহলে আপনি একজন অনলাইন টিউটর হিসেবে কাজ শুরু করতে পারেন। আজকাল ছাত্র ছাত্রীরা ঘরে বসে মোবাইল বা ল্যাপটপের মাধ্যমে পড়াশোনা করতে অধিক পছন্দ করেন। কেননা, তারা অনলাইনের মাধ্যমে নামকরা শিক্ষকদের ক্লাস করতে পারেন এবং এতে তাদের যাতায়াতের সময় বেচে যায়। এছাড়াও তারা নিজেদের পছন্দমতো যেকোনো সময় যেকোনো বিষয় বা টপিকের ক্লাস করতে পারেন। তবে, একজন অনলাইন শিক্ষক হওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে এবং কোনো বিশেষ বিষয়ে অভিজ্ঞ হতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি আইসিটি ভালো পারেন, তাহলে আপনি অনলাইনে শিক্ষার্থীদের আইসিটি পড়িয়ে ভালো পরিমাণে ইনকাম করতে পারবেন। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আপনি ঘরে বসে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে পারবেন। এজন্য আপনার কোনো শ্রেণীকক্ষের প্রয়োজন হবে না। 
৮. অ্যাপ তৈরি ও মনিটাইজ আপনি যদি ঘরে বসে নিয়মিত টাকা ইনকাম করতে চাচ্ছেন, তাহলে আপনি নিজের এন্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরি করতে পারেন। একটি ভালো অ্যাপ তৈরি এবং মনিটাইজ করে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০০ থেকে ২০০০ টাকা ইনকাম করা সম্ভব। আমরা আমাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে Google Play Store থেকে বিভিন্ন android app ডাউনলোড করে থাকি। এই অ্যাপগুলো ব্যবহার করার সময় আমরা কিছু বিজ্ঞাপন (advertisements) দেখতে পাই। এই বিজ্ঞাপনগুলো Google AdMob এর দ্বারা দেখানো হয় এবং এগুলো দেখানোর বিনিময়ে অ্যাপসের মালিকরা অর্থ উপার্জন করে থাকে। আপনিও চাইলে নিজের একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস তৈরি করতে পারেন এবং বিজ্ঞাপন দেখিয়ে ভালো পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারেন। আর একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস তৈরি করার জন্য আপনাকে আগে ভেবে নিতে হবে, কোন বিষয়ে আপনি অ্যাপটি তৈরি করবেন। কোন বিষয়ে অ্যাপগুলো লোকেরা বেশি পরিমাণে ব্যবহার করে থাকেন, এটা আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, ইংরেজি শিক্ষা নামে প্লে স্টোরে একটি অ্যাপ রয়েছে, যেটা ৫০ হাজারেও বেশিবার ডাউনলোড করা হয়েছে। এই ধরনের অন্যান্য টপিকগুলো নিয়ে আপনি অ্যাপ বানাতে পারেন। আর বর্তমানে বেশ কিছু android app builder website এর মাধ্যমে ফ্রিতে কোডিং জ্ঞান ছাড়াই নিজের অ্যাপ বানানো সম্ভব। যদি আপনার অ্যাপটি হাজার হাজার মানুষজন ডাউনলোড করে ব্যবহার করেন, তাহলে আপনি প্রতিদিন ১০০০ বা তার বেশি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 
৯. সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট যেকোনো একটি ব্যবসা সঠিকভাবে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে একটি কোম্পানিকে ব্রান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তাই বিভিন্ন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল বা পেজ পরিচালনা করার জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞ সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারদের হায়ার করে থাকেন। আর একজন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে আপনাকে যে কাজগুলো জানতে হবে সেগুলো হলো সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, আকর্ষণীয় কনটেন্ট তৈরি, সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা, অডিয়েন্স বেস তৈরি করা ইত্যাদি। আপনি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস কিংবা বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি ইভেন্টগুলোর মাধ্যমে কাজ খুঁজতে পারবেন। আপনি নিজের একটি পোর্টফোলিও তৈরি করতে পারেন যাতে আপনার আগের সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্টের কাজগুলো সাজানো থাকবে এবং লোকেরা সেগুলো দেখতে পারবেন। যদি আপনি সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট এর সাথে জড়িত সব কাজগুলোতে দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে আপনি প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 
১০. ফ্রিল্যান্সিং সাইট ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে আপনি নিজের পছন্দমতো যেকোনো সময় কাজ করতে পারবেন। একটি ফুল টাইম চাকরির চেয়ে ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে কাজ করে বেশি টাকা ইনকাম করা সম্ভব। এখানে আপনি কনটেন্ট রাইটিং, ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ট্রান্সলেশন, ওয়েবসাইট ডিজাইন ইত্যাদি বিভিন্ন কাজ পেতে পারবেন। আপনার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী আপনি যেকোনো কাজ করতে পারবেন। এটি একটি মুক্ত পেশা হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত এবং ফ্রিল্যান্সিং কাজগুলো করে ঘরে বসে আপনি প্রতিদিন ১০০০ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে সাধারণত কাজের বিনিময়ে ফ্রিল্যান্সাদের টাকা দেওয়া হয়ে থাকে। তাই আপনার অভিজ্ঞতা কেমন বা আপনি কতগুলো কাজ পাচ্ছেন তার উপর নির্ভর করে আপনার ইনকামের পরিমাণ। তবে, যদি আপনি যেকোনো একটি কাজে দক্ষ হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি প্রতিদিন একটি বা দুটি করে কাজ পেতে পারেন এবং সেগুলো ডেলিভারি দিয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি আগে যে সমস্ত ক্লায়েন্টদের কাজ করেছেন, আপনার প্রোফাইলে থাকা সেইসব ক্লায়েন্টদের ভালো রিভিউ এবং রেটিং আপনাকে নতুন কাজ পেতে এবং প্রতিদিন ইনকাম করতে অধিক সাহায্য করবে। 
১১. ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট Virtual assistant হলো একটি self-employed job যেটা ঘরে বসে করা সম্ভব। একজন ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে আপনাকে ক্লায়েন্ট এর একাধিক কাজ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ব্লগ বা ওয়েবসাইট ম্যানেজমেন্ট, ফোন কল করা, ভ্রমণের ব্যবস্থা করা এবং ইমেল অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা। এই কাজের জন্য আপনার প্রচুর দক্ষতা থাকতে হবে না। শুধু কিছু শব্দ প্রক্রিয়াকরণ জ্ঞান, ভালো যোগাযোগ দক্ষতা, লেখার অনুশীলন এবং কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আপনি বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলোতে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট এর কাজ পেতে পারবেন। এই কাজের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বাড়িতে বসে পার্ট টাইম কাজ করা যায় এবং একসাথে একাধিক ক্লায়েন্ট এর কাজ করা যায়। 
১২. ফটো সেলিং ছবি তোলার যদি আপনার শখ হয়ে থাকে অথবা আপনি যদি একজন ফটোগ্রাফার হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি স্টক ইমেজ ওয়েবসাইটগুলোতে আপনার তোলা ছবি বিক্রি করে দৈনিক ১০০০ টাকা ইনকাম করতে পারেন। বর্তমানে অনলাইনে ছবি বিক্রি করে ইনকাম করাটা অনেক সহজ। এজন্য প্রথমে আপনাকে ছবি বিক্রি করার স্টক ফটোগ্রাফি ওয়েবসাইট গুলোতে একাউন্ট তৈরি করতে হবে। এরপর আপনার তোলা ছবি সেই সাইটে আপলোড করতে হবে। আপলোড করার পর অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। যখন আপনার ছবিগুলো অনুমোদন হয়ে যাবে, তখন সারা বিশ্বের লোক আপনার ছবিগুলো দেখতে পারবেন। তারপরে বায়াররা যখন আপনার আপলোড করা ছবিগুলো ডাউনলোড করবে বা কিনবে, তখন এর বিনিময়ে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। তাই অনলাইনে ছবি বিক্রি করে রোজগার করতে চাইলে এখন থেকেই আপনাকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় কিছু ছবি তুলে নিয়মিত আপলোড করতে হবে। যদি আপনার কাছে একটি ভালো মানের ক্যামেরা থাকা স্মার্টফোন থাকে, তাহলেই আপনি এই কাজটি করতে পারবেন। আর আপনি যদি একজন ফটোগ্রাফার হন এবং আপনার DSLR ক্যামেরা থাকে, তাহলে আপনার জন্য তো এটা আরো সহজ। 
১৩. ই-বুক বিক্রি বর্তমানে যেকোনো জনপ্রিয় বিষয় বা টপিকের ওপর লোকেরা তাদের মোবাইল বা কম্পিউটারে ই-বুক পড়তে পছন্দ করে থাকে। তাই এটি নতুনদের জন্য দ্রুত অনলাইনে অর্থ উপার্জন করার জন্য এটি একটি দুর্দান্ত উপায় হিসেবে দাঁড়িয়েছে। কারণ এতে কোনো ধরনের মুদ্রণ বা শিপিং খরচ নেই। লোকজনের ইন্টারেস্ট রয়েছে, এরকম যেকোনো বিষয় নিয়ে আপনি ইবুক তৈরি করতে পারেন এবং সেগুলো অনলাইনে বিক্রি করে প্রতিদিন ইনকাম করতে পারেন। আপনি নিজের ব্লগ আর্টিকেল, ফেসবুক অথবা ইউটিউবের মাধ্যমে আপনাএ বানানো ই-বুক বিক্রি করতে পারবেন। যদি আপনার তৈরি করা ই-বুকটি প্রচুর পরিমাণে লোকেরা ক্রয় করে তাহলে আপনি ভালো পরিমাণে রোজগার করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে মানুষজনের ই-বুক পড়ার প্রচুর চাহিদা বা ইন্টারেস্ট রয়েছে, অবশ্যই এরকম বিষয় নিয়ে ইবুক বানাতে হবে। 
১৪. ভিডিও গেম লাইচ স্ট্রিমিং গত কয়েক বছরে ভিডিও গেম স্ট্রিমিং করা ইউটিউবারদের সংখ্যা প্রচুর বৃদ্ধি পেয়েছে। আপনি যদি গেম খেলতে পারদর্শী হন এবং ক্যামেরার সামনে থাকতে উপভোগ করেন তাহলে এটি আপনার জন্য একটি দুর্দান্ত অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হতে পারে। আপনি একটানা কয়েক ঘন্টার জন্য গেমের লাইভ স্ট্রিম করতে পারেন, আপনার অডিয়েন্স বা দর্শকদের আনন্দ দিতে পারেন এবং তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় ভিডিও গেমগুলো লাইভ স্ট্রিমিং করলে এবং আপনার পারদর্শীতা প্রকাশ করতে পারলে খুব তাড়াতাড়ি আপনি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারবেন। আর একবার জনপ্রিয়তা অর্জনের পর, অন্যান্য ভিডিও গেম স্ট্রীমারদের সাথে যোগাযোগ করে এবং তাদের সাথে লাইভ স্ট্রিম করার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে পারবেন। বিখ্যাত গেম স্ট্রিমাররা এভাবে তাদের চ্যানেলে স্ট্রিমিং করে থাকেন এবং তাদের ভিডিওতে মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউস পেয়ে থাকেন। কারণ লোকেরা এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক গেমিং ভিডিওগুলো দেখতে অধিক পছন্দ করেন। ইউটিউব এবং ফেসবুকের মতো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো গেম স্ট্রিমারদের বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয় করার সুযোগ দিয়ে থাকে। এছাড়াও ভিডিও গেম স্ট্রীমাররা ব্র্যান্ড ডিল, স্পনসরশিপ এবং পণ্য বিক্রয় থেকে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারেন। 
১৫. ট্রান্সক্রিপটিং ট্রান্সক্রিপশন হলো শব্দ বা অডিও ফাইলের কোনো মূল বা বক্তব্য কে বর্ণানুক্রমে লেখা অথবা টাইপ করা। এটি সাধারণত বিভিন্ন ধরণের বক্তৃতা, বৈশিষ্ট্য অথবা ইভেন্ট যেমন সেমিনার, প্রেজেন্টেশন, ইন্টারভিউ, ওয়েবিনার, পড়াশোনা, ভিডিও বা অডিও ফাইল ইত্যাদি থেকে সংগৃহীত করা যেতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় ভিডিও অথবা অডিও ফাইল থেকে বিভিন্ন ধরণের কথা বা বাক্যকে লেখা ফর্মে রূপান্তর করা হয়। একজন ট্রান্সক্রিপ্টার অডিও বা ভিডিও ফাইল শোনে এবং সেগুলো টাইপ করে লেখায় রূপান্তর করে নেয়। ট্রান্সক্রিপটিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন উপায়ে ইনকাম করা যায়। প্রথমত, বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে একাউন্ট খুলে আপনি বিভিন্ন কোম্পানিতে ট্রান্সক্রিপশন প্রকল্পে যোগদান করতে পারেন। এই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে রয়েছে Upwork, Freelancer, Fiverr, Rev, TranscribeMe ইত্যাদি। দ্বিতীয়ত, অনেক ট্রান্সক্রিপশন কোম্পানিতে সরাসরি চাকরি পাওয়া যায়। আপনি তাদের ওয়েবসাইটে আবেদন করতে পারেন অথবা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে চাকরি খুঁজতে পারেন। এছাড়াও আপনি নিজের ট্রান্সক্রিপশন ওয়েবসাইট তৈরি করে সেটার মার্কেটিং করতে পারেন এবং নতুন নতুন ক্লায়েন্টদের জন্য কাজ করতে পারেন।



মেয়েদের ঘরে বসে আয় করার উপায়: ১৫টি রোজগারের উপায় দৈনিক 60 ডলার ইনকাম


মেয়েদের ঘরে বসে আয় করার উপায়: ১৫টি রোজগারের উপায় বর্তমান সময়ে নারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার হার বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মেয়েদের অবদান প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে। ছেলেদের মতো মেয়েরাও বিভিন্ন ধরনের কাজ করে অর্থ উপার্জন করছেন। কিন্তু কিছু মেয়ে রয়েছে যারা বাড়ির বাইরে গিয়ে কাজ করে অর্থ উপার্জন করাকে পছন্দ করেন না। তাই এসব মেয়েরা ঘরে বসে রোজগার করার উপায়গুলো খুঁজে থাকেন। এমনিতে মেয়েদের ঘরে বসে ইনকাম করার অনেক উপায় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে আজকের আর্টিকেলে মেয়েদের জন্য ১৫টি আয়ের উপায় উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো অধিক সহজে করা যাবে এবং সবচেয়ে বেশি লাভজনক। মেয়েদের ঘরে বসে আয় করার সেরা ১৫টি উপায়: কনটেন্ট রাইটিং (Content Writing) ইউটিউব চ্যানেল (YouTube Channel) ফেসবুক গ্রুপ থেকে আয় ব্লগিং (Blogging) ভিডিও এডিটিং করে আয় ছাত্র-ছাত্রীদের টিউশনি করানো ফ্রিল্যান্সিং করে আয় ভ্লগিং (Vlogging) টিফিন সার্ভিস (Tiffin Service) বিউটি পার্লার দিয়ে ইনকাম গৃহপালিত পশুপাখি পালন বাগান তৈরি ওয়েবসাইট বিক্রি করে আয় ডাটা এন্ট্রি (Data Entry) দর্জি কাজ করে আয় 
m
১. কনটেন্ট রাইটিং (Content Writing) মেয়েদের অনলাইনে আয় করার জন্য সবচেয়ে সহজ এবং লাভজনক উপায় হলো কনটেন্ট রাইটিং। Content writer-রা ঘরে বসে বিভিন্ন topic এর উপর কনটেন্ট লিখে ইন্টারনেটের মাধ্যমে টাকা আয় করে থাকেন। বর্তমানে প্রত্যেকের হাতে হাতে স্মার্টফোন এবং ল্যাপটপ রয়েছে। অজানা যেকোনো বিষয় সম্পর্কে জানতে লোকেরা বিভিন্ন search engine গুলোতে প্রচুর পরিমাণে সার্চ করছেন। যেকোনো একটি বিষয় নিয়ে সার্চ করার পর সার্চ ইঞ্জিন যে information বা আর্টিকেলগুলো search result এর মধ্যে দেখিয়ে থাকে, এসব informative article বা কনটেন্টগুলো content writer-রা লিখে থাকেন। ইন্টারনেটে অনেক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট বা ব্লগ রয়েছে যারা কনটেন্ট রাইটারদের কাছ থেকে কনটেন্ট লিখে নিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে তারা তাদের ওয়েবসাইট বা ব্লগে content writing job দিয়ে থাকে, যেটা করে রাইটাররা ভালো পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারেন। যদি আপনার যেকোনো একটি বিষয়ের উপর ভালো জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং সে বিষয়ের উপর আপনি ভালো ভালো article বা content লিখে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খুব সহজেই ইনকাম করে নিতে পারবেন। ইংরেজি ভাষার কনটেন্ট এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে আপনি বাংলা ভাষাতেও কনটেন্ট রাইটিং এর কাজ করতে পারবেন। একজন ভালো কনটেন্ট রাইটার হয়ে ওঠার জন্য আপনাকে দুই থেকে ছয় মাস ভালোভাবে practice অবশ্যই করতে হবে। ইন্টারনেটে থাকা ব্লগ বা ওয়েবসাইটগুলোর আর্টিকেলগুলো পড়তে হবে এবং সেখান থেকে আর্টিকেল লেখার নিয়ম বা পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। অন্যান্য রাইটাররা একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে কিভাবে আর্টিকেলে উপস্থাপন করেছেন সেটা আপনাকে বুঝতে হবে। আপনি যত ভালো কনটেন্ট তৈরি করতে পারবেন তত ভালো পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আপনি যদি অন্যের ওয়েবসাইটে আর্টিকেল লিখতে না চান, তাহলে নিজেই একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি করে সেখানে নিজের আর্টিকেলগুলো পাবলিশ করতে পারবেন এবং একসময় ভালো পরিমাণে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। Blogger.com এর মাধ্যমে আপনি ফ্রিতেই মাত্র ১০ মিনিটে একটি ব্লগ বানিয়ে নিতে পারবেন। মেয়েদের জন্য ঘরে বসে অর্থ উপার্জন করার সবগুলো উপায়ের মধ্যে content writing এর কাজ অধিক সহজ। High quality এবং SEO friendly কনটেন্ট তৈরি করা শিখে নিয়ে মেয়েরা এই কাজের মাধ্যমে প্রতি মাসে ভালো পরিমাণে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। 
২. ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে আয় মেয়েদের ঘরে বসে আয় করার উপায়গুলোর মধ্যে একটি সেরা উপায় হলো ইউটিউব চ্যানেল আইডিয়া। ইউটিউব থেকে টাকা আয় করার উপায় অনেক সহজ। এজন্য আপনার দরকার হবে একটি ইউটিউব চ্যানেল (YouTube Channel) এর। ইউটিউব হলো বিশ্বের সেরা একটি ভিডিও শেয়ারিং সাইট। যেকেউ শুধুমাত্র নিজের gmail account দিয়ে একটি ইউটিউব চ্যানেল বানিয়ে নিতে পারেন এবং সেখানে video upload করতে পারেন। বাংলাদেশে অনেক ইউটিউবার রয়েছেন যারা কেবল ভিডিও বানিয়ে তাদের চ্যানেল থেকে প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করছেন। খুব তাড়াতাড়ি এবং সহজে অর্থ উপার্জন করার জন্য ইউটিউব হলো জনপ্রিয় একটি প্লাটফর্ম। এক্ষেত্রে আপনাকে যেকোন বিষয়ে ভিডিও বানিয়ে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করতে হবে। যেমন মেয়েরা চাইলে রান্নার ভিডিও বানিয়ে চ্যানেলে আপলোড করতে পারেন। নতুন নতুন recipe তৈরি করার টিউটোরিয়াল বানাতে পারেন। বর্তমান সময়ে রান্নাবান্নার টপিকটি লোকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। কেননা লোকেরা বিভিন্ন মজাদার খাবার তৈরির নিয়ম জানার জন্য ইউটিউবে প্রচুর পরিমাণে সার্চ করে থাকেন। তাই আপনি যদি এই টপিকটি নিয়ে ভালো ভালো ভিডিও তৈরি করতে পারেন তাহলে খুব সহজেই আপনি ইউটিউব থেকে টাকা আয় করতে পারবেন। এছাড়াও আরও অনেক টপিক রয়েছে যেগুলো নিয়ে আপনি ভিডিও বানাতে পারেন। যেমন: Educational, music video, funny video, travelling ইত্যাদি। যখন আপনি ইউটিউব চ্যানেলে নিয়মিত সুন্দর সুন্দর ভিডিও বানিয়ে আপলোড করতে থাকবেন, তখন লোকেরা আপনার ভিডিও দেখবে এবং আপনার চ্যানেলকে সাবস্ক্রাইব করবে। এভাবে যখন আপনার চ্যানেলে ১০০০ সাবসক্রাইবার হয়ে যাবে এবং ভিডিওতে ভালো views আসা শুরু হবে, তখন আপনার চ্যানেল monetize করিয়ে ইউটিউব থেকে টাকা আয় করতে পারবেন। মেয়েরা বাড়িতে বসে ইউটিউবে ভিডিও বানানোর কাজটি করতে পারবেন, তাই মেয়েদের জন্য বাড়িতে বসে আয় করার জন্য এটি একটি উপযুক্ত মাধ্যম।
m
 ৩. ফেসবুক গ্রুপ থেকে আয় আজকাল প্রত্যেকেই ফেসবুকে ভিডিও দেখে কিংবা বন্ধুবান্ধবদের সাথে chatting করে প্রচুর সময় নষ্ট করে থাকেন। ফেসবুকে এসব কাজে সময় ব্যয় না করে সঠিকভাবে কাজ করতে পারলে আপনি ফেসবুক থেকেই প্রচুর পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। বর্তমানে অনেক মেয়েরাই ফেসবুকে গ্রুপ তৈরি করে অনেক বড় আকারের community তৈরি করছেন। আপনিও সুন্দর নাম দিয়ে একটি facebook group তৈরি করে বিভিন্ন পদ্ধতিতে গ্রুপটি বড় করে তুলতে পারেন। মনে রাখবেন, একটি ফেসবুক গ্রুপ থেকে টাকা আয় করতে হলে গ্রুপে অনেক members থাকতে হবে। যদি আপনি ১০ হাজার বা এর বেশি সংখ্যক member এর একটি গ্রুপ তৈরি করতে পারেন তাহলে এখান থেকে একাধিক উপায়ে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। আপনার ফেসবুক গ্রুপকে বড় করার জন্য আপনার facebook friend দের invite করতে পারেন এবং আপনার বন্ধু-বান্ধবদের বলতে পারেন অন্যেদের invite পাঠাতে। এভাবে যখন হাজার হাজার লোকেরা আপনার গ্রুপে যুক্ত হয়ে যাবে তখন এফিলিয়েট মার্কেটিং এবং ই-কমার্স পণ্য বিক্রি করে আয় করতে পারবেন। একটি বড় আকারের ফেসবুক গ্রুপ বা পেজের মাধ্যমে কোন e-commerce কোম্পানির product বিক্রি করে কমিশন (Comission) এর মাধ্যমে ইনকাম করা খুবই সহজ। এই প্রক্রিয়াটি হলো affiliate marketing এভাবে ছেলেদের মতো মেয়েরাও চাইলে ফেসবুকে নিজের একটি বিশাল কমিউনিটি বানিয়ে সেটাকে কাজে লাগিয়ে ঘরে বসে অনলাইন টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 
৪. ব্লগিং (Blogging) বর্তমান সময়ে ঘরে বসে টাকা আয় করার সবেচেয়ে জনপ্রিয় এবং লাভজনক উপায় হলো ব্লগিং (blogging)। ব্লগিংকে এক ধরনের বিজনেস (business) বলা যেতে পারে, যেটা ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা সম্ভব। ব্লগিং এর মাধ্যমে নিজের অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে খুব সহজেই টাকা ইনকাম করতে পারবেন। প্রথমের দিকে পার্ট টাইম ব্লগিং করে ইনকাম করে ইনকাম করা যায় এবং ধীরে ধীরে আপনি ব্লগিংকে ফুল টাইম হিসেবে নিতে পারবেন। একজন ফুল টাইম ব্লগার বা প্রফেশনাল ব্লগার প্রতি মাসে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা অনায়াসেই আয় করে থাকেন। ব্লগিং একটি দীর্ঘস্থায়ী আয়ের উৎস, যেখানে আপনি কেবল আর্টিকেল লেখার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। ব্লগিং এর মাধ্যমে একবার আপনার ইনকাম শুরু হয়ে গেলে দিন দিন আপনার ইনকাম এর পরিমাণ বাড়তে থাকবে। এরপর আপনি যদি কিছুদিনের জন্য কাজ করা বন্ধ করে দেন তবুও আপনার ইনকাম হতেই থাকবে। ব্লগিং করে টাকা আয় করার জন্য আপনাকে প্রথমে আপনাকে একটি অনলাইন ব্লগ তৈরি করতে হবে। আপনি চাইলে গুগল ব্লগারের মাধ্যমে বিনামূল্যে খুব সহজেই নিজের একটি ব্লগ বানিয়ে নিতে পারবেন। তাই আপনি যদি একজন ব্রিলিয়ান্ট হয়ে থাকেন এবং ছেলেমেয়েরা পড়াতে পছন্দ করেন তাহলে আপনিও হোম টিউটর এর দায়িত্ব পালন করে প্রতি মাসে ভালো পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এজন্য আপনাকে বাসার বাইরেও যেতে হবেনা, আবার বাসায় বসে বাচ্চাদের পড়িয়ে অর্থ উপার্জন করার সুযোগ পাবেন। বর্তমানে একটা স্টুডেন্টকে বাসায় পড়ানোর জন্য মাসে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন। এভাবে আপনি যদি ৫ জন স্টুডেন্টকেও পড়ান, তাহলে প্রতি মাসে ১০ হাজার এর বেশি টাকা অনায়াসেই ইনকাম করতে পারবেন। তাই বাড়িতে বসে ইনকাম করার জন্য আপনি হোম টিউশনের কাজটিকে বেছে নিতে পারেন। 
৭. ফ্রিল্যান্সিং করে মেয়েদের ঘরে বসে আয় বর্তমানে সকলের কাছেই freelancing এর বিষয়টি বেশ পরিচিত। কেননা ঘরে বসে অর্থ উপার্জন করার জন্য ফ্রিল্যান্সিং সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং লাভজনক একটি মাধ্যম। আজকাল শুধু যে ছেলেরাই ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করে ঘরে বসে ইনকাম করছেন এমনটা নয়। ছেলেদের পাশাপাশি আমাদের দেশে অনেক মেয়েরা সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন এবং ফ্রিল্যান্সিং করে ঘরে বসে অনলাইনে আয় করছেন। আপনার প্রতিভাকে যদি কাজে লাগাতে পারেন তাহলে ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে আপনিও প্রচুর পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করার জন্য প্রথমে আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে account তৈরি করতে হবে। এরপর কাজ পাওয়ার জন্য আপনাকে ক্লায়েন্ট খুঁজতে হবে। যেকোনো একটি freelancing marketplace এর দ্বারা আপনার freelancing career শুরু করে দিতে পারেন। যেমন: freelancer, fiverr, upword, people per hour ইত্যাদি। তবে আমরা ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করার বিষয়টিকে যতটা সহজ মনে করি, ব্যাপারটা ততটা সহজ নয়। কেননা আপনি যখন দেশ বিদেশের ক্লায়েন্টদের বিভিন্ন কাজ করে দিতে চান, তাহলে আপনাকে সেই কাজগুলো করার দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। এছাড়া আপনি সফলভাবে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন না। Freelancing sector এ অনেকগুলো কাজ রয়েছে, এসবের মধ্যে থেকে আপনি যেকোনো একটি কাজ শিখে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারেন। যেমন: web design, graphics design, content writing, video editing, digital marketing ইত্যাদি। এগুলো যেকোনো একটি কাজে পুরোপুরি expert হওয়ার পর আপনি ফ্রিল্যান্সিং start করতে পারবেন। প্রথমের দিকে আপনার ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শিখতে এবং ক্লায়েন্ট পেতে একটু কষ্ট হবে, কিন্তু যখন আপনি অভিজ্ঞ হয়ে উঠবেন তখন খুব সহজেই আপনি কাজ পেয়ে যাবেন। ফ্রিল্যান্সিং এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনো সময় করা যায়। আর এই কাজের জন্য আপনার একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ অবশ্যই থাকতে হবে। পার্লারের সাজ নেওয়াটাও একটা কাজ। ঘরে বসেও রূপচর্চা করা যায় কিন্তু রূপচর্চার ক্ষেত্রে বিউটি পার্লারসমূহ নিয়ে এসেছে অনেক নতুন নতুন পদ্ধতি যা সবার মন কেড়েছে এবং প্রত্যেক মেয়েরা এখান থেকে বিউটি ট্রিটমেন্ট করতে অধিক আগ্রহী হয়ে থাকেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিউটি পার্লার বাসা বাড়িতেই হয়ে থাকে। বর্তমান মেয়েদের রূপচর্চার এই চাহিদাকে ফোকাস করে মেয়েরা বিউটি পার্লার খুলে ভালো পরিমাণে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। বিউটি পার্লার এর এই ব্যবসা শুরু করতে আপনাকে খুব বেশি ইনভেস্ট করতে হবে না। তবে বিউটি পার্লার ডেকোরেশন করতে আপনাকে একটু বেশি খরচ করতে হবে। আপনি চাইলে বাড়ির আলাদা একটা রুমে ডেকোরেশন করে বানিয়ে নিতে পারেন বিউটি পার্লার। এক্ষেত্রে এক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজন হবে একটি মেকআপ টেবিল, চেয়ার, আয়না এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সাজসজ্জার সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি যেমন: হেয়ার স্পা মেশিন, হেয়ার রিকভারি মেশিন, ফেসিয়াল মেশিন, হেয়ার হিটার ইত্যাদি লাগবে। এছাড়াও অনেক ভালো মানের কসমেটিকস এর জিনিসপত্র আপনাকে কিনতে হবে। তবে একটি বিউটি পার্লার খুলে বসে থাকলে এমনি এমনি আপনি কাস্টমার পাবেন না। কাস্টমার পাওয়ার জন্য আপনাকে এক্সট্রা কিছু কাজ করতে হবে। যেমন: বাজারে কিংবা রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় advertisements লাগাতে হবে, যাতে লোকেরা আপনার বিউটি পার্লারের বিষয়ে জানতে পারেন। এছাড়াও আপনার কাজের ছবি এবং ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে পারেন যাতে করে আপনার অধিক কাস্টমার পাওয়ার সুযোগ থাকবে। তাছাড়া আপনি যদি ভালো বিউটি সার্ভিস দিতে পারেন এবং সকলের কাছে পরিচিতি অর্জন করতে পারেন তাহলে বিভিন্ন বিয়ের অনুষ্ঠানে মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ পেতে পারবেন। এভাবে আপনি ঘরে বসেই বিউটি পার্লার ব্যবসার মাধ্যমে প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 
১১. গৃহপালিত পশুপাখি পালন বর্তমানে গ্রাম কিংবা শহরের প্রচুরসংখ্যক মেয়েরা গৃহপালিত পশুপাখি পালনের মাধ্যমে বাড়িতে বসে ইনকাম করছেন। আপনি যদি একজন মেয়ে হিসেবে পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করতে চান তাহলে গৃহপালিত পশুপাখি পালন করে তাদের দুধ, ডিম বিক্রি করে ইনকাম করতে পারবেন। আপনি অবশ্যই জেনে থাকবেন, আজকাল শহর এবং গ্রামের অনেক মহিলা বা মেয়েরা বিভিন্ন গৃহপালিত পশু যেমন: গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগী, কবুতর ইত্যাদির খামার করে সফল ও স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাই আপনিও ভালো জাতের গৃহপালিত পশুপাখি ক্রয় করে সঠিকভাবে উদ্যোগ নিয়ে বাড়িতে বসে ইনকামের একটি ব্যবস্থা করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে খুব বেশি পরিমাণে ইনভেস্ট করতে হবে না।
 ১২. বাগান তৈরি বাংলাদেশে অনেক পরিবার রয়েছে যারা তাদের বসত বাড়ির আঙিনায় বিভিন্ন শাক, সবজি অথবা ফলের বাগান তৈরি করে আয় করছেন। এতে নিজের পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সেগুলো বাজারে বিক্রি করে ভালো পরিমাণে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। মেয়েদের ঘরে বসে আয় করার উপায়গুলোর মধ্যে বাগান তৈরি করা একটি লাভজনক ব্যবসা যা মেয়েদের শখের উপর নির্ভর করে। বাসার ছাদে, বারান্দায় কিংবা আশেপাশে কোন খোলা জায়গায় একটি বাগান গড়ে তুলে সেখান থেকে মেয়েরা বাড়তে আয় করতে পারবেন। অনলাইন শপিং কমপ্লেক্স কিংবা কৃষি অফিস থেকে উন্নত জাতের বীজ অর্ডার করতে পারেন। জমিতে পরিমাণমতো বিভিন্ন জৈব ও রাসায়নিক সার, কীটনাশক ইত্যাদি প্রয়োগ করে মাটির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি করতে পারেন। এরপর নিজের বাগানে টাটকা, শাক-সবজি এবং ফলমূল জন্মাতে পারবেন। এতে করে বাড়ির সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি এগুলো বিক্রি করে অর্থ আয় করতে পারবেন। 
১৩. ওয়েবসাইট বিক্রি করে আয় ওয়েবসাইট বানিয়ে বিক্রি করে আয় করাটা মেয়েদের ঘরে বসে আয় করার সহজ উপায়গুলোর মধ্যে একটি। কেননা এতে আপনি ওয়েবসাইটে পার্ট টাইম সময় দিয়ে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন। স্বল্প ইনভেস্ট করে আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। এরপর ওয়েবসাইটে নিয়মিত আর্টিকেল লিখে আপনাকে গুগল এডসেন্স এপ্রুভাল নিতে হবে। এজন্য আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগে ৪০ থেকে ৫০ টি ভালো কোয়ালিটির আর্টিকেল পাবলিশ করতে হবে। যখন আপনি গুগল এডসেন্স অনুমোদন পেয়ে যাবেন তখন সেই ওয়েবসাইট বিক্রি করে সহজেই ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আর একটি ভালো ট্রাফিক বা ভিজিটরস থাকা ওয়েবসাইট এর থেকেও অনেক বেশি দামে বিক্রয় করা সম্ভব। বর্তমানে এই ধরনের ওয়েবসাইটের চাহিদা প্রচুর রয়েছে। তাই মেয়েরা চাইলে ওয়েবসাইট বা ব্লগের যাবতীয় কাজগুলো শিখে নিয়ে ওয়েবসাইট বানিয়ে বিক্রি করে ভালো পরিমাণে টাকা আয় করতে পারবেন। 
১৪. বেকারি ব্যবসা আপনি যদি বিভিন্ন বেকারি খাদ্যদ্রব্যগুলো তৈরি করতে দক্ষ হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি বাড়িতে বসে বেকারি বিজনেস শুরু করতে পারেন এবং লোকদের কাছ থেকে অর্ডার নিতে পারেন। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন জন্মদিন কিংবা বিবাহ বার্ষিকী অনুষ্ঠানের জন্য লোকেরা বাড়িতে বানানো কেক এবং অন্যান্য জিনিসগুলো অর্ডার করতে পছন্দ করেন। তাই আপনি একটি ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়া পেজ খুলে সেখানে কাস্টমারদের থেকে অর্ডার নিতে পারবেন এবং পণ্যগুলো সরবরাহ করতে পারবেন। এভাবে মেয়েরা বিভিন্ন বেকারি পণ্যগুলো তৈরি এবং হোম ডেলিভারি করার মাধ্যমে ঘরে বসে আয় করতে পারবেন। 
১৫. দর্জির কাজ করে আয় মেয়েদের ঘরে বসে টাকা আয় করার একটি জনপ্রিয় উপায় হচ্ছে দর্জি বা সেলাই কাজ। আজকাল সব জায়গায় সেলাই কাজের প্রচুর চাহিদা লক্ষ্য করা যায়। তাই আপনি যদি দর্জি কাজ করে আগ্রহী থাকেন এবং এই কাজ সম্পর্কে আপনার ভালো জ্ঞান থাকে, তাহলে আপনি ঘরে বসে সেলাইয়ের কাজ করে মাসে ভালো পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। দর্জি কাজও কারিগরি কাজের আওতাভুক্ত এবং এর দ্বারা মেয়েরা নিজের ঘরের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে নিতে পারেন। বর্তমানে অনলাইনে এবং অফলাইনে বিভিন্ন জায়গায় দর্জি কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া যেগুলো থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আপনি দর্জি কাজ শুরু করে দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে সামান্য ইনভেস্ট করতে হবে। কারণ, এই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামগুলো আপনাকে ক্রয় করতে হবে। যেমন: সেলাই মেশিন। দর্জি কাজ শিখে গেলে একদিকে আপনি অন্যের জামাকাপড় সেলাই করার মাধ্যমে টাকা আয় করতে পারবেন এবং অন্যদিনে নিজের জামাকাপড় সেলাই করার জন্য আপনাকে কোন ধরনের খরচ করতে হবে না। তাই মেয়েরা ঘরে বসে হাতের কাজ করে করতে চাইলে এই কাজটিকে নির্বাচন করতে পারেন।

m



ভিডিও দেখে দৈনিক 20 ডলার ইনকাম করার অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটগুলো সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো। (Best Apps and Websites to Watch Video and Earn Money Online in Bangladesh)


আজকাল ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেট থেকে অনলাইনে টাকা আয় করার অনেক উপায় রয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং, ব্লগিং, ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ ইত্যাদি বিভিন্ন মাধ্যমে বর্তমানে ঘরে বসে লোকেরা টাকা ইনকাম করার সুযোগ পাচ্ছেন। এগুলো বাদে আপনি যদি একদম সহজে অনলাইন থেকে ভিডিও দেখার মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে চান, তাহলে কোন চিন্তা করবেন না। এমন কতগুলো অনলাইন ইনকাম অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট রয়েছে, যেগুলো আমাদের অনলাইনে ভিডিও দেখে টাকা আয় করার দারুণ সুযোগ প্রদান করে থাকে। আমরা প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও দেখে প্রচুর সময় নষ্ট করে থাকি। এক্ষেত্রে আমরা এই ভিডিও দেখে টাকা ইনকাম করার ওয়েবসাইট এবং অ্যাপগুলো ব্যবহার করে অনলাইনে ভিডিও দেখে বিনোদনের পাশাপাশি কিছু টাকা আয় করতে পারি। তাই আপনিও যদি অনলাইনে ভিডিও দেখে অর্থ উপার্জন করার বিভিন্ন উপায় খুঁজছেন, তাহলে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন। Video দেখে Online Income করার সুবিধা: অনলাইনে video advertisements গুলো দেখার মাধ্যমে সহজেই বাড়তি কিছু টাকা ইনকাম করতে পারবেন। বিভিন্ন company গুলো তাদের ভিডিও এডস এ ভালো ভিউসের জন্য viewers দের পুরস্কৃত করে থাকে। শুধুমাত্র একটি android smartphone বা computer এবং internet connection এর প্রয়োজন হবে। আবসর সময়ে ভিডিও দেখে বিনোদনের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ পাবেন বর্তমান সময়ে বিভিন্ন কোম্পানি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের product বা service সমূহের promotion করার জন্য প্রচুর পরিমাণে video advertisements ব্যবহার করে। অর্থাৎ বিভিন্ন online platform এর ভিডিওগুলোতে বিজ্ঞাপন (ads) দেখানোর মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের প্রমোশন বা মার্কেটিং করে থাকে। এ কারণেই তারা viewers দের টাকা দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে যদিও তারা খুব বেশি টাকা দেয় না, তবে আপনি অনলাইনে ভিডিও দেখার মাধ্যমে আপনার হাত খরচের টাকা অবশ্যই ইনকাম করতে পারবেন। আর ভিডিও দেখার মাধ্যমে অনলাইনে ইনকাম করা যায় এরকম ওয়েবসাইট বা অ্যাপ বর্তমানে ইন্টারনেটে প্রচুর রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অনেক ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ভুয়া (fake)। যেগুলো আপনাকে ভিডিও দেখার বিনিময়ে কোনো টাকা পে করবে না এবং আপনার সময় নষ্ট হবে। Video দেখে টাকা ইনকাম করার জন্য যেসকল app বা website একদম রিয়াল (real), সেগুলোর বিষয়ে আজকের আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক, আপনার স্মার্টফোন দিয়ে অনলাইনে ভিডিও দেখে টাকা আয় করার জন্য সেরা অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটগুলো কি কি? অ্যাপস / ওয়েবসাইট (Apps / Websites):ইনকামের উপায় (Earning Opportunity):InboxDollarsঅনলাইনে video দেখা, email পড়া এবং online survey গুলোতে participate করার মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবেন।Swagbucksভিডিও দেখে, অনলাইন সার্ভে সম্পূর্ণ করে এবং online shopping করে pints পেতে পারবেন।MyPointsঅনলাইন শপিং, সার্ভে এবং ভিডিও দেখার মাধ্যমে reward point earn করতে পারবেন।iRazoo Appভিডিও দেখার পাশাপাশি বিজ্ঞাপন দেখে, সার্ভে গুলো সম্পূর্ণ করে এবং গেম খেলে আয় করা যাবে।Roz Dhanভিডিও দেখা, আর্টিকেল শেয়ার করা, বন্ধুদের রেফার করা এবং প্রতিদিনের কিছু task সম্পূর্ণ করে আয় করা যাবে।Viggleভিডিও দেখার মাধ্যমে অথবা TV এবং streaming content দেখে আয় করতে পারবেন।Pocket Moneyভিডিও দেখা, বিভিন্ন গেম খেলা, app install করা, refer করা এবং link এ click করার মাধ্যমে ইনকাম করা যাবে।TaskBucksভিডিও দেখা, অনলাইন সার্ভে সম্পূর্ণ করা, app install করা, কুইজ ইত্যাদি উপায়ে আয় করতে পারবেন।ClipClapsনিজের বানানো short video upload করে এবং অন্যের ভিডিও দেখে reward coins earn করতে পারবেন।VidCashFunny বা comedy video দেখার মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। 10 Easy Ways to Watch Videos and Earn Money Online নিচে ভিডিও দেখে টাকা ইনকাম করার apps বা website গুলোর বিষয়ে এক এক করে আলোচনা করা হয়েছে। আপনারা এসব online earning platform এ কিভাবে বা কোন পদ্ধতিতে কাজ করবেন সে বিষয়ে আজকের আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত উল্লেখ করবো না। কাজ করার নিয়ম বা পদ্ধতি আপনারা এই ওয়েবসাইট বা অ্যাপগুলোতে প্রবেশ করে দেখে নিতে পারবেন। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন ওয়েবসাইট এবং অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপগুলো থেকে ভিডিও দেখা, পেইড সার্ভে করা কিংবা গেম খেলার মাধ্যমে টাকা আয় করা যায়। 
1. InboxDollars InboxDollars থেকে ভিডিও দেখে অনলাইন ইনকাম করার জন্য অনেকগুলো সহজ উপায় রয়েছে এখানে বিভিন্ন ধরনের video content আপনি পেয়ে যাবেন। এগুলো আপনি smartphone অথবা laptop দিয়ে খুব সহজেই দেখতে পারবেন। Video বা advertisement গুলো এখানে প্রতিদিন upload করা হয়ে থাকে। বলতে গেলে, এখানে আপনি ২৪ ঘন্টার মধ্যে সর্বোচ্চ ৩০ টি ভিডিও দেখতে পারবেন। এইসব ভিডিও বিভিন ধরনের topic বা ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। যেমন: celebrity gossip, technology, news, food, entertainment, health, fitness ইত্যাদি। এখানে থাকা বেশিরভাগ ভিডিওগুলোতে একবার দেখার বিনিময়ে 5-25 cents প্রদান করা হয়ে থাকে। ভিডিও দেখার পাশাপাশি প্রতিদিন বিভিন্ন ছোট ছোট অনলাইন কাজগুলো করেও এখান থেকে আপনি ইনকাম করতে পারবেন। InboxDollars থেকে ইনকাম করা টাকা আপনি আপনার পেপাল (PayPal) একাউন্টের মাধ্যমে নিতে পারবেন। এছাড়াও আপনি এই ডলারগুলো gift card এর মাধ্যমে redeem করতে পারবেন, যেটা আপনি Amazon, Walmart ইত্যাদি online shopping website গুলোতে ব্যবহার করতে পারবেন। তারা প্রতি সপ্তাহের বুধবার করে পেমেন্ট (payment) করে থাকে। ঘরে বসে অনলাইন থেকে টাকা আয় করার জন্য একটি একটি অত্যন্ত সহজ মাধ্যম। 
2. Swagbucks এটি হলো অনলাইনে ভিডিও দেখার মাধ্যমে টাকা আয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি ওয়েবসাইট। যদি আপনি আপনার মোবাইল দিয়ে অনলাইনে বিভিন্ন ভিডিও দেখে অর্থ উপার্জন করতে চান, তাহলে এটা আপনার জন্য best choice হতে পারে। ভিডিওতে শো হওয়া বিজ্ঞাপনগুলো দেখার পাশাপাশি এখানে আরও বিভিন্ন কাজ রয়েছে যেগুলো আপনি করতে পারবেন। এখানে আপনি web search করে, বিভিন্ন গেম খেলে এবং অনলাইন শপিং করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আপনি যদি ওয়েবসাইট ব্যবহার না করে সরাসরি এর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে চান, তাহলে Google Play Store থেকে Swagbucks অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিতে পারেন। এই প্লাটফর্মে ১৫০০ এর অধিক retailers রয়েছে, যেগুলো থেকে আপনি বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনতে পারেন এবং টাকা আয় করতে পারেন। যখন আপনি এমনিতে অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে shopping করে থাকেন, তখন খুব কম ক্ষেত্রেই আপনাকে cashback প্রদান করা হয় বা পণ্য অর্ডারের সময় কিছু অফার দেওয়া হয়। কিন্তু Swagbucks ব্যবহার করে যতবার আপনি অনলাইনে জিনিসপত্র ক্রয় করবেন, ততবারই আপনি এখান থেকে কিছু টাকা অবশ্যই পাবেন। এই ওয়েবসাইটে প্রথম sign up করলেই আপনি ১০ ডলার বোনাস পেয়ে যাবেন। এখানে, বিভিন্ন ধরনের movies, news এবং video গুলো দেখার বিনিময়ে আপনাকে যে points দেওয়া হবে সেগুলো আপনি PayPal, gift cards বা cash হিসেবে redeem করতে পারবেন। এখান থেকে ইনকামের টাকা আপনি পেপাল একাউন্টের মাধ্যমে নিতে পারবেন। 3. MyPoints এই online income platform টি ১৯৯৬ সাল থেকে ইন্টারনেটে রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, Swagbucks এবং MyPoints একই market research company দ্বারা পরিচালিত। ভিডিও বিজ্ঞাপনগুলো দেখার পাশাপাশি তাদের users-রা অনলাইনে বিভিন্ন গেম খেলে, সার্ভে complete করে, বন্ধু-বান্ধবদের রেফার করে, ইমেইল পড়ে এবং ওয়েব সার্চ করে points earn করতে পারে। যদি আপনি অনলাইনে ভিডিও দেখে টাকা ইনকাম করার সেরা ওয়েবসাইট খুঁজছেন, তাহলে এটি আপনার জন্য parfect choice হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এখান থেকে ইনকাম করা পয়েন্টগুলো আপনি PayPal cash, Amazon অথবা Walmart gift cards এর মাধ্যমে সহজেই redeem করতে পারবেন। তবে, এখান থেকে পয়েন্ট অর্জন করা এবং সেগুলোকে রিডিম করার জন্য একটি সম্পূর্ণ playlist এর ভিডিওগুলো অবশ্যই আপনাকে দেখতে হবে। 
4. iRazoo App মোবাইলে ভিডিও দেখার মাধ্যমে অনলাইনে আয়ের জন্য এটি খুবই জনপ্রিয় একটি android app. iRazoo App এর users-রা iRazoo TV তে বিভিন্ন প্রকারের ভিডিও কনটেন্টগুলো দেখার মাধ্যমে পয়েন্ট অর্জন করে থাকেন। এই প্লাটফর্মটি ব্যবহারকারীদের অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে ঘরে বসে আয় করার জন্য একটি ভালো income source হিসেবে কাজ করে। এখানে কাজ করার জন্য আপনার তেমন বেশি দক্ষতা (skills) এর প্রয়োজন হবে না। কেবলমাত্র মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারের সাধারণ দক্ষতা থাকলেই এই অনলাইন আর্নিং প্লাটফর্মে আপনি কাজ করতে পারবেন। এখানে আপনারা কেবল ভিডিও দেখে টাকা আয় করার সাথে অন্যান্য বিভিন্ন কাজগুলো যেমন: বিজ্ঞাপন দেখা, সার্ভে সম্পূর্ণ করে, গেম খেলা ইত্যাদির মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবেন। প্রত্যেকটি কাজ সম্পূর্ণ করার পর আপনার একাউন্টে কিছু points দেওয়া হবে। এভাবে ৩০০০ পয়েন্ট অর্জন করার পর আপনি PayPal বা অন্যান্য মাধ্যমে টাকা তুলতে পারবেন। 

5. Roz Dhan Roz Dhan হলো এমন একটি এপ্লিকেশন যেটি ব্যবহারকারীদের ভিডিও দেখে এবং বিভিন্ন প্রকার ছোট ছোট tasks গুলো সসম্পূর্ণ করার মাধ্যমে আয় করার দারুণ সুযোগ দিয়ে থাকে। এই অ্যাপটি আপনারা Google play store থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। এখানে আপনারা বিভিন্ন আর্টিকেল শেয়ার করে এবং বন্ধুদের refer করেও income করতে পারবেন। Roz Dhan অ্যাপে নতুন একাউন্ট তৈরি করার পর আপনি welcome bonus হিসেবে ৫০ টাকা পেয়ে যাবেন। আবার প্রতিদিন লগইন করার জন্য কিছু করে login bonus পেতে পারবেন। এখানে প্রত্যেকটি কাজের জন্য আপনার একাউন্টে পয়েন্ট জমা হবে। এসব পয়েন্ট আপনি cash, mobile recharge অথবা gift vouchers এ convert করে নিতে পারবেন। 
6. Viggle Viggle হলো এমন একটি অ্যাপ যেটি বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্ট, video content, streaming content এবং TV দেখার বিনিময়ে ইউজারদের pay করে থাকে। Users-রা স্ট্রিমিং কনটেন্ট বা টিভি দেখার সময় Viggle অ্যাপে চেক ইন করতে পারেন এবং তাদের দেখার সময়ের জন্য পয়েন্ট অর্জন করতে পারেন। আপনি যদি অনলাইনে video দেখে টাকা ইনকাম করার অ্যাপ খুঁজছেন, তাহলে এটি আপনার জন্য একটি দুর্দান্ত online earning app. এখানে প্রতি মিনিট ভিডিও দেখার জন্য viewers রা এক পয়েন্ট করে পেয়ে থাকেন। আবার, এমন কতগুলো শো (show) রয়েছে, যেগুলো দেখার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ১০ পয়েন্ট সহ 10x বোনাস অর্জন করতে পারে। ভিডিও দেখার সাথে সাথে এই অ্যাপের মাধ্যমে বন্ধুদের সাথে interact করার বিনিময়ে পয়েন্ট অর্জন করার সুযোগ রয়েছে। এখানে অর্জন করা পয়েন্টগুলো আপনারা gift cards কিংবা cash এর মাধ্যমে রিডিম করতে পারবেন। 

7. Pocket Money ভিডিও দেখে ইনকাম করার জন্য Pocket Money হলো চমৎকার একটি এন্ড্রয়েড অ্যাপ। এই অ্যাপেও আপনারা ভিডিও দেখার সাথে সাথে গেম খেলে, app install করে এবং লিংকে ক্লিক করার মাধ্যমে টাকা আয় করতে পারবেন। এছাড়াও অ্যাপটিতে যদি আপনি অন্য কোনো ব্যক্তিকে রেফার করেন, তাহলে এর জন্য আপনি কিছু টাকা referral bonus হিসেব পেয়ে যাবেন। Pocket Money এর মাধ্যমে আয় করা টাকা আপনারা Paytm wallet, talk-time বা mobile recharge এর দ্বারা নিতে পারবেন। 

8. TaskBucks TaskBucks হলো অনলাইনে ভিডিও দেখে ইনকাম এর জনপ্রিয় একটি ওয়েবসাইট। আপনি চাইলে গুগল প্লে স্টোর থেকে TaskBucks এর amdroid app আপনার মোবাইলে install করে নিতে পারবেন। এই online income website বা app এ আপনি ভিডিও দেখা, সার্ভে সম্পূর্ণ করা, অ্যাপ ইনস্টল করা, কুইজ খেলা এবং অন্যান্য আরও ছোটো ছোটো কাজগুলো পেয়ে যাবেন। এখান থেকে আপনি ভিডিও দেখে এবং অন্যান্য কাজগুলো করে প্রতিদিন ৫০০ টাকা ইনকাম করে নিতে পারবেন। এছাড়াও এই ওয়েবসাইট বা অ্যাপটিতে আপনি রেফার করেও ইনকাম করতে পারবেন। আপনার referral link এর মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তিকে রেফার করতে পারবেন এবং প্রতিবার রেফারের জন্য আপনার একাউন্টে ২৫ টাকা বোনাস হিসেবে যুক্ত হবে। এই ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করা টাকা আপনি Paytm অথবা সরাসরি মোবাইল রিচার্জ এর মাধ্যমে তুলতে পারবেন। 
9. ClipClaps ClipClaps হলো টিকটক বা লাইকির মতো একটি জনপ্রিয় short video sharing app। এই অ্যাপে যেকেউ নিজের একটি একাউন্ট তৈরি করতে পারে এবং বিভিন্ন মজার short video বানিয়ে তাদের একাউন্টে আপলোড করতে পারে। অন্যান্য ClipClaps users রা এসব ভিডিও দেখতে পারে, react করতে পারে এবং একে অপরকে follow করতে পারে। এই app এ নিজের শর্ট ভিডিও upload করা এবং অন্যের আপলোড করা ভিডিও দেখা, এই দুইটি কাজের মাধ্যমেই ব্যবহারকারীদের claps coin হিসাবে reward দেওয়া হয়। ভিডিও দেখে টাকা ইনকাম করার জন্য এটি হলো সেরা একটি অ্যাপ। এখানে আপনার একাউন্টে সর্বনিম্ন ১০ ডলার হলেই পেমেন্ট নিতে পারবেন। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, পেপাল, মোবাইল রিচার্জ ইত্যাদি মাধ্যমে আপনার ইনকাম করা টাকা তুলতে পারবেন। যদি আপনার একাউন্টে ৩ ডলার জমা হয় তাহলে আপনি বাংলাদেশের যেকোনো মোবাইল অপারেটরের সিমে mobile recharge করে নিতে পারবেন। 
10. VidCash উপরের অ্যাপসগুলোর মতো VidCash অ্যাপটিও ভিডিও দেখার জন্য টাকা দিয়ে থাকে। VidCash অ্যাপে আপনারা ফানি ভিডিও বা কমেডি ভিডিওগুলো দেখে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এছাড়া আপনি যদি অন্য কারো রেফারেল লিংক এর মাধ্যমে একাউন্ট তৈরি করেন, তাহলে আপনার একাউন্টে বোনাস হিসেবে কিছু টাকা অবশ্যই যুক্ত হবে। এই অ্যাপটি থেকে আয় করা টাকা আপনারা সরাসরি বিকাশের মাধ্যমে নিতে পারবেন। VidCash অ্যাপটি ডাউনলোড এবং ইনস্টল এর প্রক্রিয়া খুবই সহজ। আপনারা Google play store এর মধ্যে VidCash লিখে search করলেই অ্যাপটি পেয়ে যাবেন।
m


10 Aug 2024

বিয়ের রাতের বিড়াল সমাচার



Mm
বেশ অনেকদিন আগের কথা। ঘটনা পঙ্খানুপুঙ্খ মনে না থাকলেও কুয়াশাচ্ছন্ন স্মৃতি থেকে বর্ণনা করছি। খুব সকালে মহানগর প্রভাতীতে যাত্রা করছিলাম চট্টগ্রামে অফিসের কাজে। ট্রেন ছাড়তে তখন বেশ বাকি। বেশি সকালে ঘুম থেকে উঠার কারণে ক্লান্তি লাগছিলো। নির্দিষ্ট বগিতে উঠে আমার নির্ধারিত আসনে বসে পড়লাম। মুখোমুখি দুটো আসন। জানালার পাশে। আমার হাতে একটি ছোট্ট ব্যাগ, যাতে একদিনের জামা কাপড় আর কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। সযতনে ব্যাগটি কোলের উপর রেখে চোখ বন্ধ করতেই কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। যখন জেগে উঠলাম দেখলাম প্রায় ঘন্টা খানেক ঘুমিয়েছি। ট্রেন মনে হয় অনেক আগেই চলতে শুরু করেছে। আমার সামনে বসে আছেন এক ভদ্রলোক। গায়ের রং শ্যামলা, চোখে চশমা। ভদ্রলোক মনে হয়ে এতক্ষন আমাকেই দেখছিলেন গভীর ভাবে। আমি চোখ মেলতেই তিনি তাঁর দৃষ্টি সরিয়ে নিলেন আমার দিক থেকে। তাঁকে বেশ পরিচিতই মনে হচ্ছিলো। কোথায় যেন দেখেছি ? অথবা এমন চেহারার আর কাউকে হয়তো চিনি। সে যা হোক, যাত্রা পথে সাথে বই রাখি, যা পড়তে পড়তে গন্তব্যে পৌঁছে যাই। এ আমার অনেক দিনের অভ্যেস। রেলগাড়িতে ভ্রমণ আমার সবচেয়ে প্রিয়। 
Mm
শৈশবে যখন রেলগাড়িতে ভ্রমণ করতাম, তখন শরীরের প্রায় অর্ধেক থাকতো জানালার বাইরে। কখনো নির্মল, কখনো বা ধুলো মাখা বাতাস আমার সারা শরীরে পরশ বুলিয়ে যেত। জানালা দিয়ে খুব উপভোগ করতাম বাইরের বিস্তৃত শস্য খেত, প্রায় শুকিয়ে যাওয়া খাল-বিল, মাঝে মধ্যে নদী -নালা, দূরে আকাশের গায়ে মিশে থাকা গাছপালা। রেলগাড়ি চলার সময় যে দুলোনি হতো সেটাই আমার সবচেয়ে ভালো লাগতো। ক্লান্ত হয়ে গেলে চোখ বন্ধ করে রেলগাড়ির দুলোনি উপভোগ করতাম। দোলা খেতে খেতে একসময় ঘুমিয়ে পড়তাম। এখনো ভালো লাগে রেলগাড়ির দুলোনি। বই পড়ায় মনোযোগ দিতে পারছিলাম না। কারণ সামনের লোকটি আমার দিকে চেয়ে আছে। কেমন একটি অস্বস্তি বোধ করছিলাম। পড়া বন্ধ করে হঠাৎ তাঁর দিকে তাকাতেই সে আবার তাঁর দৃষ্টি সরিয়ে নিলো। আমি ভনিতা না করে যতটুকু সম্ভব মুখের বিরক্তি দূর করে হাসি মুখে তাঁর দিকে তাকালাম। এবার তাঁর অস্বস্তির পালা। একটু অপ্রস্তুত হয়ে বললো, ভাই আপনাকে খুব পরিচিত মনে হচ্ছে। ভাই কি চট্টগ্রামে থাকেন? আমি বললাম, না আমি ঢাকায় থাকি। তিনি বললেন, ঢাকা কি আপনাদের আদি বাড়ি। আমি বললাম, না আমার বাড়ি সিরাজগঞ্জ। তিনি যেন তড়িতাহত হলেন। বলেন কি, ' আমার বাড়িও তো সিরাজগঞ্জ। তা আপনার বাড়ি শহরের কোন এলাকায় ? 
mm
আমি বললাম আসলে আমাদের আদি বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর গ্রামে। তবে আমি আমার মেঝো খালার সিরাজগঞ্জের বাড়িতে বেশ কিছুদিন ছিলাম। তাদের বাড়ির নাম “চিটাগং কুঠি”। তিনি উত্তেজিত হয়ে বললেন, আপনি কি চররায়পুর স্কুলে পড়েছেন কখনো? আমি বললাম, হা দু' বছর পড়েছি। তিনি ফুটবলের পেনাল্টি শটের মতই নিশ্চিত ভাবেই বললেন, আমার নাম সাত্তার, এ নামে কি কাউকে চিনতেন ? এবার আমার অবাক হবার পালা, আমি আমার নাম বলা মাত্রই উঠে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো, বন্ধু তোর সাথে এভাবে দেখা হবে কোনো দিন ভাবি নি। বললাম, তোর তো কোনো পরিবর্তনই হয় নি মুখের আদল অবিকল রয়ে গেছে, শুধু ছোট মুখটি আকারে বড় হয়েছে। তারপর অনেক কথা, অনেক স্মৃতি, অনেক গল্প। জেনেছিলাম, সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স ও মাস্টার্স করে সিরাজগঞ্জ এক বেসরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করে। তারপর সিরাজগঞ্জ বি এল কলেজে অধ্যাপনা করেছিল কিছুদিন। বর্তমানে ঢাকার এক বেসরকারী কলেজে অধ্যাপনা করছে। পরীক্ষার এক্সটার্নাল হিসেবে চট্টগ্রাম যাচ্ছে। এখন নাকি নতুন সিরাজগঞ্জ শহর আমি চিনতেই পারবো না। ভাবলাম, যে শহরে স্মৃতি নেই বললেই চলে তাকে চেনার আগ্রহ তেমন নেই। এখন আমার একমাত্র আগ্রহ সাত্তারের জীবন কাহিনী শোনার। নিজের চেষ্টায় একজন দরিদ্র কৃষক পরিবার থেকে তার এমন উত্থান আমার বেশ ভালো লাগছিলো। তখন হাতে অনেক সময় প্রায় পাঁচ ঘন্টা লাগবে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে। আমি বললাম, তোর সংসারের কথা বল। সে বললো, বিয়ে করেছি প্রায় সাত বছর হয়ে গেলো। আমার একটি মাত্র মেয়ে নিয়ে আমরা ভালোই আছি। তারপর বললো , একটু বস আমি বাথরুম থেকে আসছি। আমি ফিরে গেলাম আমার শৈশবে, সেই প্রাথমিক বিদ্যালয় সিরাজগঞ্জের চররায়পুর স্কুলে। সাত্তার গ্রামের অতি সহজ সরল একজন মানুষ। সিরাজগঞ্জ চর রায়পুর স্কুলে আমার সহপাঠীদের মধ্যে যে বন্ধুরা স্কুল কলেজের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পেরেছিলো তাদের মধ্যে সাত্তার অন্যতম। 
mm
সে সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যারা পড়ালেখা করতো, তাদের হিসাব জ্ঞান হলেই তাদের অভিভাবক লেখাপড়া বন্ধ করে তাদের ব্যবসার কাজে লাগিয়ে দিতেন। সাত্তার উৎরাতে পেরেছিলো কারণ তার বড়ভাই লেখাপড়া শেষ করে স্থানীয় কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেছিলেন যা সাত্তারকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলো।



mm




বাঙালি মনীষীদের চা প্রীতি-অপ্রীতি


M m
প্রাথমিক পর্যায়ে ভারতবর্ষে চায়ের বিপণন ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। ক্রেতাদের চামুখী করার জন্য কোম্পানিগুলোর নানামুখী তৎপরতা ছিল উল্লেখ করার মতো। তারা এ কাজে বাহারি বিজ্ঞাপন ছাড়াও নানাবিধ বিনিয়োগের মাধ্যমে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের মানুষদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করত। তবে শুরুতে চরম প্রতিকূল পরিবেশের সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাদের। বৈরী এ পরিবেশ তৈরিতে সর্বতো সহযোগিতা ছিল যার, তিনি হলেন প্রখ্যাত রসায়নবিদ ও দার্শনিক প্রফুল্লচন্দ্র রায়। স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় নিয়ে বিজ্ঞানী প্রফুল্লচন্দ্র রায় চা পানের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার প্রয়াস পান। সেকালের চায়ের বিপণন সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি লিখেছেন-‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার সময়ে পরীক্ষার্থীদিগকে বিনা মূল্যে চা পান করাইবার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রে কেন্দ্রে তাঁবু ফেলা হইতে লাগিল। একজন ‘টি কমিশনার’ এতদর্থে নিযুক্ত হইলেন। ‘টি কমিশনার’ সুলভ মূল্য নহে, একবারে বিনা মূল্যে জনসাধারণকে ‘চা-খোর’ করিতে লাগিলেন। 

mm
১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ১৩৭টি সহরে চা-খানা স্থাপিত হইয়াছিল। বৎসরের শেষে উহা ৬৮৩টিতে পরিণত হয়।’ মাসিক বসুমতী পত্রিকার ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের ভাদ্র ও কার্তিক সংখ্যায় তিনি ‘চা-পান ও দেশের সর্ব্বনাশ’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ লিখেন। ইতঃপূর্বে একই পত্রিকায় তিনি লিখেন, ‘চা-পান না বিষ-পান’ শীর্ষক প্রবন্ধ। তার মতে, চা মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষতিসাধন করে এবং ক্ষুধা নষ্ট করে। নিজের ধারণার সপক্ষে তিনি একটি ব্যঙ্গচিত্রও আঁকেন। এ ব্যঙ্গচিত্রে দেখা যায়, একজন ‘পাক্কা চা-খোর’ এর করুণ চিত্র। এ পাক্কা চা-খোরের টেবিলে একটি বড় চায়ের পাত্র আর তার হাতে এক কাপ চা। তার মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, পায়ে ছিন্ন জুতা, ছেঁড়াখোঁড়া পোশাক, আর চারদিকে ছড়ানো অসংখ্য সিগারেটের খোসা। সব মিলিয়ে চায়ের নেশায় অকেজো এক মানুষের প্রতিচ্ছবি। ‘চা-পান ও দেশের সর্ব্বনাশ’ প্রবন্ধের উপসংহারে তিনি লিখেছেন- ‘চা পান করিলে জাতিনাশ হইবে, এমন কথা আমি বলি না। পরিমিত চা পানে দেহের স্বাস্থ্য ভঙ্গ হইবে, এমন কথাও আমি বলিতেছি না। আমার বলিবার কথা এই যে, যদি বাঙালি সংযম ও নিয়মের অনুজ্ঞা মানিয়া প্রচুর সারবান ও পুষ্টিকর খাদ্যের সহিত সামান্য একটু চা দিবাভাগে একবার মাত্র পান করে, তাহা হইলে বিশেষ ক্ষতি হয় না। কিন্তু বাঙালি অপরিমিত চা পান করিতে অভ্যস্ত হইয়া আপনার সর্ব্বনাশ সাধন করিতেছে, ইহাই দেখাইয়া আমি সময় থাকিতে বাঙালীকে সতর্ক হইতে বলিতেছি।’ চা চাষের ফলে বাঙালি অর্থনীতি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেসব কথাও তিনি তার লেখায় তুলে ধরেন। ফলে বাঙালিদের অনেকেই তখন চা-পানের বিরোধিতা করে। ব্রাহ্মসমাজের অনুগামীরা প্রায় সবাই চা পানের আসক্তির ঘোরবিরোধী ছিলেন। 
mm

চা-পান নিয়ে সেকালের কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, বৈজ্ঞানিকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে বিস্তর। চা নিয়ে মৌলানা আবুল কালাম আজাদের রয়েছে এক দীর্ঘ চিঠি; যা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ‘গুবার-এ-খাতির’-এ। তার লেখা চিঠিগুলোর সংকলন এ পুস্তক। চা-সংক্রান্ত চিঠিটির একটা অংশে তিনি লিখেছেন- ‘চায়ের সুরুচি, উপাদেয়তা এবং মিষ্টত্বের সঙ্গে তামাকের উগ্র কটু স্বাদের সংমিশ্রণে আমি এক রকম জটিল উত্তেজক প্রস্তুত করেছি।...আপনারা বলতে পারেন, এমনিতেই তো চা খাওয়া খুব একটা সু-অভ্যাস নয়, তার সঙ্গে আরও একটি আপত্তিকর বস্তু যোগ করার দরকারটা কী? চা ও সিগারেটের এ জটিল মিশ্রণটি যেন শয়তানের সঙ্গে শয়তানের মিলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।...’ চিঠির অপর একটা অংশে মৌলানা আজাদ জানান যে, দৃঢ় মনোবলের কারণে সিগারেটের বদভ্যাসটা তিনি শিগ্গির ছাড়তে পেরেছিলেন। কবি কুমুদ রঞ্জন মল্লিকের অবস্থানও ছিল চা পানের বিপরীতে। ১ আশ্বিন, ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে শ্রীগিরিজাকুমার বসু ও শ্রীসুনির্মল বসুর সম্পাদনায় ‘ছোটদের চয়নিকা’ শীর্ষক গ্রন্থে ‘রামসুক তেওয়ারী’ নামক তার লেখা ছড়া প্রকাশ পেয়েছিল। এটি সেসময় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। পালোয়ান রামসুক তেওয়ারি বাংলায় এসেছিলেন ভাগ্য বদলাতে। ভাগ্য বদলাতে না পারলেও শিগ্গির চায়ে আসক্ত হয়ে পড়েন। চায়ের প্রভাবে তিনি বদহজমজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন এবং তার ওজন হ্রাস পেতে শুরু করে। চা পানের কুফল এবং রামসুকের পরিণতি বর্ণনা করতে গিয়ে কুমুদ রঞ্জন লিখেছেন- ‘অবশেষে অসুখের সংবাদ পাইয়া/দেশ থেকে ধেয়ে এলো দেশোয়ালি ভাইয়া/করে’ দিলে প্রথমেই চা খাওয়া-টা বন্ধ/বে-ভাষায় বলল সে কতো কী যে মন্দ।’ গ্রামের সেই আত্মীয়ের পরামর্শ মেনে রামসুক তার হারানো স্বাস্থ্য ফিরে পেয়েছিলেন, যা টের পাওয়া যায় ছড়ার শেষাংশে: ‘চা ছাড়িয়া রামসুক উঠলো মুটিয়ে,/অর্হরের ডাল খায়, জোয়ারের রুটি হে।/চা খেলেই তাড়া করে, করে নাক কেয়ার-ই,/খাসা আছে, সুখে আছে রামসুক তেওয়ারি।’ চাপন্থিদের তুলোধুনো, শত আপত্তি এবং বিতর্ক সত্ত্বেও কিন্তু থেমে যায়নি চা পান। নানাবিধ প্রতিকূলতার পরও পরিস্থিতি একটা সময় চা কোম্পানির অনুকূলে আসে। 

mm
বিজ্ঞাপনের গুণেই হোক আর অন্য যে কোনো কারণেই হোক, বঙ্গদেশে বছর বছর চা-পায়ীর সংখ্যা বেড়েছে। চা হয়ে ওঠে বাঙালির নিত্যসঙ্গী। বাঙালি মনীষীদের মধ্যে অনেকেই চায়ের ভক্ত হয়ে ওঠেন। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, দীনেশচন্দ্র সেন, প্রমথ চৌধুরী প্রমুখ। তাদের নানা লেখায় ও অন্যান্য কবি-সাহিত্যিকদের স্মৃতিকথায় প্রকাশ পেয়েছে চায়ের প্রতি তাদের অনুরাগ। সেন্ট্রাল টি বোর্ডের চায়ের বিজ্ঞাপনে কবিগুরুর একাধিক কবিতা ব্যবহার করা হয়েছে। আর তা প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বভারতীয় পত্রিকার বেশ কটি সংখ্যায়। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষাভেদে কবিগুরুর নতুন নতুন কবিতা প্রকাশ পেয়েছে। তবে সেখানে টি বোর্ডের স্লোগান ছিল একটাই-‘ঋতুচক্রের বিচিত্র উৎসব-মুহূর্তগুলোকে রঙে রসে মধুর করে তোলে।’ চা পানের বিচিত্র পদ্ধতি ছিল রবীন্দ্রনাথের। তিনি খানিকটা গরম জলে কয়েকটা চা পাতা ফেলে দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে দুধ মিশিয়ে খেয়ে নিতেন। ১৯২৪ সালে চীন ভ্রমণকালে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গী ছিলেন দোভাষী নামক একজন নারী। এ বিদেশি বন্ধুর নামে তিনি শান্তিনিকেতনে প্রতিষ্ঠা করেন ‘সুসীমো চা-চক্র’ মজলিস। ১৯২৮ সালে ‘সুৎসী-মো’র শান্তিনিকেতন দর্শন উপলক্ষ্যে গান রচনা করেন। ‘হায় হায় হায় দিন চলি যায়/চা-স্পৃহ চঞ্চল চাতকদল চলো চলো চলো হে।’ পরবর্তীকালে এ চা চক্রের আমন্ত্রণে আর একটি কবিতায় কবি অতিথিগণকে নিয়ে লেখেন। ‘চা-রস ঘন শ্রাবণ ধারা প্লাবন লোভাতুর/কলাসদনে চাতক ছিল ওরা।’ ঔপন্যাসিক শংকরের লেখা ‘অচেনা অজানা বিবেকানন্দ’ গ্রন্থ হতে স্বামী বিবেকানন্দের চা প্রেমের খবর পাওয়া যায়। স্বামী সারদানন্দ ছিলেন চায়ের প্রবল ভক্ত। বিবেকানন্দ-ভ্রাতা মহেন্দ্রনাথ একবার সারদানন্দকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তুমি এতো চা খেতে শিখলে কোথা থেকে?’ স্বামী সারদানন্দের উত্তর ছিল: ‘তোমার ভাইয়ের পাল্লায় পড়ে। তোমাদের বাড়িতে যে চায়ের রেওয়াজ ছিল সেইটা বরাহনগর মঠে ঢুকিয়ে দিলে, আর আমাদের চা-খোর করে তুললে। তোমরা হচ্ছে একটা নার্কটিকের ফ্যামিলি।’ ঐতিহাসিক গৌতম ভদ্র স্বামী বিবেকানন্দের চা প্রীতির একটি বর্ণনা দিয়েছেন তার লেখায় : ‘ক্ষমতা ও লোকনিন্দার থোড়াই কেয়ার করতেন বিবেকানন্দ, তাই ১৮৮৬ সালেই ঠাকুরকে [শ্রীরামকৃষ্ণ] পোড়ানোর রাতেই দরমা জ্বালিয়ে কেটলি করে চা খেয়েই তিনি ও তার গুরুভাইরা রাত কাবার করেছেন। দারুণ অভাবেও বরাহনগরের মঠে স্বামীজি চা ছাড়েননি, অন্যদেরও ধরিয়েছেন। 
mm

জেলা কোর্টে দাঁড়িয়ে হলফ করে চা খাওয়ার পক্ষে সওয়ালও করেছিলেন।’ মহেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতি কথাতেও এসেছে এ সংশ্লিষ্ট তথ্য। তিনি লিখেছেন-গুঁড়ো চা গরম জলে দিয়ে একটু কড়া করে নেয়, আর তাই ঢক ঢক করে খায়, দুধ চিনির তো নামই নাই। তাই বলে মাঝে মধ্যে যে চায়ের ভোল বদল হতো না, এমনটাও নয়-যেদিন যেদিন সুরেশবাবু বা মাস্টারমশাই দুধ ও চিনির জোগানদারের ভূমিকা নিতেন, সেদিন সেদিন লালিমা ঘুচিয়ে দুধসহ মিষ্টি চা খাওয়ার সৌভাগ্য হতো বিবেকানন্দসহ গুরুভাইদের। মঠে চা-টা শুরু থেকেই বেশ গুরুত্ব পেয়ে গেল। নেশার তলব থেকে নয়, অর্ধাহারী মঠবাসীদের খিদে মারার মহৌষধ হিসাবে। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের চা পান সম্পর্কে হেমেন্দ্রকুমার রায় লিখেছেন- ‘কেবল কাঁড়ি কাঁড়ি পান নয়, আঠার-বিশ পেয়ালা চা না পেলে সিক্ত হতো না তার কণ্ঠ দেশ!’ ‘ঠাকুরবাড়ির আঙিনায়’ বইটিতে পল্লীকবি জসীমউদ্দীন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে চা পান করানোর একটি মজার কাহিনি উল্লেখ করেছেন। সেবার ফরিদপুরে বঙ্গীয় রাষ্ট্রীয় সমিতির একটি অধিবেশনে কবি নজরুল এসেছিলেন। কবির সম্মানে জসীমউদ্দীনের উদ্যোগে সেই রাতে গানের জলসা বসানো হয়। সেখানেই এ চা কাহিনির সৃষ্টি। জসীমউদ্দীনের ভাষায়, ‘রাত্রিবেলা এক মুস্কিলে পড়া গেল। চা না পাইয়া কবি অস্থির হইয়া উঠিলেন। এই পাড়াগাঁয়ে চা কোথায় পাইব? নদীর ওপারে গিয়া চা লইয়া আসিব, তাহারও উপায় নাই। রাত্রিকালে কে সাহস করিয়া এত বড় পদ্মা-নদী পাড়ি দিবে? তখন তিন-চার গ্রামে লোক পাঠানো হইল চায়ের অনুসন্ধানে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আলিম মাতব্বরের বাড়ি হইতে কয়েকটা চায়ের পাতা বাহির হইল। চা-পাতা দেখিয়া কবির তখন কী আনন্দ!’ চায়ে মুগ্ধ কবি নজরুল ‘চা-স্তোত্র’ নামে চায়ের স্তবগান রচনা করেছেন। চা নিয়ে বিরূপ মন্তব্যকারীদের প্রতিও কবির স্বভাবসুলভ ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে এখানে-‘চায়ের পিয়াসি পিপাসিত চিত আমরা চাতক-দল/দেবতারা কন সোমরস যারে সে এই গরম জল।/চায়ের প্রসাদে চার্বাক ঋষি বাক-রণে হল পাশ,/চা নাহি পেয়ে চার-পেয়ে জীব চর্বণ করে ঘাস।’ আরেক কবি দ্বিজেন্দ্রলাল ছিলেন চায়ের দারুণ ভক্ত।
mm

 তার কাছে চা ছিল-কষিত কাঞ্চন কায়া, সর্ব নিদ্রা নিবারণী, নিত্যানন্দদায়িনী। দ্বিজেন্দ্রলাল রায় একবার এক জমিদারকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, সে চা খায় কিনা। না বোধক উত্তর আসায় তার মন্তব্য ছিল, ‘কিন্তু তোমাকে তো ভদ্রলোকের মতোই দেখায়’! এরকম কবির দ্বারাই বোধকরি চা পানের স্তুতিগান করে লেখা সম্ভব এভাবে-‘বিভব সম্পদ ধন নাহি চাই/যশ মান চাহি না/(শুধু) বিধি যেন প্রাতে উঠে পাই/ভালো এক পেয়ালা চা-চা-চা-চা।’ অন্যত্র লিখলেন, ‘সে আসে ধেয়ে, এনডি ঘোষের মেয়ে,/ধিনিক ধিনিক ধিনিক, চায়ের গন্ধ পেয়ে।’ দীনেশচন্দ্র সেন অধিক পরিমাণ চিনি মিশিয়ে চা পান করতেন। কেউ প্রশ্ন করলে বলতেন, চিনি খাব বলেই তো চা খাই! চায়ের আর এক গুণগ্রাহী প্রমথ চৌধুরী এ সম্পর্কে তার স্বভাব সিদ্ধ ভঙ্গিতে লিখেছেন-‘চা পান করলে নেশা না হোক, চা পানের নেশা হয়।’ একটা দীর্ঘ সময় ধরে চা পান নিয়ে বাঙালি মনীষীদের এই অনুরাগ-বিরাগ চায়ের ইতিহাসকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে নিশ্চয়।


mm



ময়ূরকণ্ঠী বিকেল




এষা আর ইমা ওদের ছাদে হাত ধরে হাঁটছিল। এষার আজ জন্মদিন। তাই ওর মনটাও কেমন যেন অন্য রকম ভালোলাগায় ভরে আছে। প্রতিবারের মতো এবারও ও ওর মায়ের দেওয়া শাড়ি পরেছে। শাড়ি পরতে ওর খুব ভালো লাগে। ময়ূরকণ্ঠী রঙে ওকে লাগছেও দারুণ। -এষাপু ওই গানটা একটু গাওনা... -কোনটা?

 -ওইযে...ময়ূরকণ্ঠী রাতের নীলে... -তাইলে তুইও আমার সাথে গাইবি। -আপু এই কথা প্লিজ বলো না, মায়ের এই প্রিয় ছাদ পচা ডিম দিয়ে ভরে যাবে যে... -তুই না, যা একেকটা কথা বলিস! -প্লিজ শুরু কর এষাপু...শুরু করোনা... এষাও গলা ছেড়ে গান গাইছিল একের পর এক, কেউ গান গাইতে বললে ওর আর না নেই। ও খুব ভালো রবীন্দ্রসংগীত গায়। ইমা দেখল, পাশের বাসার ছাদ থেকে একজন অতিমাত্রার সুদর্শন লোক মুগ্ধ দৃষ্টিতে ওর আপুর গান শুনছে আর অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। লোকটিকে মনে মনে ওর আপুর জন্য পছন্দও হয়ে গেল। ও চালাকি করে আপুকে দিয়ে একের পর এক গান গাওয়াচ্ছিল, একটুও থামতে দেয়নি। এষাও মন-প্রাণ দিয়ে গাইছিল, আর তাই কোনো দিকেই ও খেয়াল করেনি। -আপু, চলো, বাসায় চলো। দেরি হলে আবার মা বকাঝকা করবে আমাকে। তোমাকে তো আর বকবে না। ইমা চিন্তা করছিল, এই সুদর্শন লোকটিকে তো ও কখনো দেখেনি পলাদের বাসায়, এ তাহলে কে? জানতে হবে ওর। এষা ও ইমা দুই বোন। ওদের বাবা শাহেদ চৌধুরী ঢাকা ইউনিভার্সিটির ইংরেজির অধ্যাপক আর মা গৃহিণী। যদিও তিনি বেশ কিছুদিন শিক্ষকতা করেছেন। মেয়েদের জন্য চাকরিটা ছেড়ে দিতে হয়েছে। বেশ সুখের সংসারই বলা যায়। 

এষা মাস্টার্স করে ফেলেছে এ বছর। একটা কিন্ডারগার্টেনে পড়াচ্ছে কিছুদিন হলো। বাবা-মার ইচ্ছা, ভালো ছেলে পেয়ে গেলে বিয়ে দিয়ে দেওয়া। কারণ এলাকার কিছু বাজে ছেলে খুব ঝামেলা করছে, বেশ কিছুদিন হলো। সবাইকে তাই বলেও রেখেছেন ভালো ছেলে দেখার জন্য। ওদের চারজনকে বন্ধু ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না। খুব সুন্দর সম্পর্ক বাবা-মা আর মেয়েদের মধ্যে। -এষার মা...এষার জন্য তো ভালো একটা প্রস্তাব এসেছে, ছেলে ডাক্তার। দেখতেও মোটামুটি ভালো। ইমা কথার মাঝে কথা বলে ফেলল, -বাবা, মোটামুটি দেখতে কারও সাথে তো আমি আপুর বিয়ে দিতে পারি না, বাবা। আপুকে বিয়ে দেব সুদর্শন কোনো যুবকের সঙ্গে। তাছাড়া এষাপু তো ডাক্তার পছন্দ করে না। -মারে, সবদিক মিলিয়ে তো পাওয়া যাবে না। আর তুই ওর বিয়ে দেওয়ার কেরে? -আমার ওপর একটু ভরসা রাখ তোমরা...দেখ, আমিই এষাপুর বিয়ে দেব। এষা আর এষার মা মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগল। এষা তো কিছুই জানে না। এষার মা বললেন, -ইমা তুই বেশি পেকে গেছিসরে, বেশি কথা বললে তোকেই বিয়ে দিয়ে দেব, তাড়াতাড়ি নাশতা খেয়ে পড়তে যা। বানর একটা। সামনে এইসএসসি পরীক্ষা, কোনোই চিন্তা নেই। এষা বলল, -একদম ঠিক বলেছ, মা ওকেই বিয়ে দিয়ে দাও। -তা তো বলবাই এখন, যার জন্য করি চুরি, সেই বলে চোর। যাচ্ছি, যাচ্ছি। পড়তে যাচ্ছি। ইমা পরের দিন কলেজে গিয়েই সব বের করে ফেলল, ওর বন্ধু পলার কাছ থেকে। পলাই বলল যে, ওর এক কাজিন এসেছে গতকাল জাপান থেকে, সঙ্গে ওর বাবা-মা। ওর খালামণির একটাই ছেলে। উদ্দেশ্য ছেলের একটা ভালো মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া, যেন ভাইয়া কোনো জাপানিজ না বিয়ে করে ফেলে। নাক বোঁচা মেয়ে ওর খালার খুবই অপছন্দ। তো তার ছেলে যে একদিনেই মেয়ে পছন্দ করে ফেলবে, তা কে জানত? কলেজ ছুটির পর ওরা যখন হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি ফিরছিল তখনই এসব বলছিল ইমাকে। পলা বলল, -জানিস ইমা, ভাইয়ার নাকি মেয়ে পছন্দও হয়ে গেছে, মেয়ে নাকি খুবই মিষ্টি দেখতে, আবার গানও জানে। -তাই নাকি? (যেন ইমা কিছুই বুঝতে পারেনি) তোর ভাইয়া বুঝি গানও শুনে ফেলেছে? পরি-টরি দেখেনি তো আবার? -আরে না, রাত হয়ে গিয়েছিল তো, তাই আর বাসাটা দেখাতে পারেনি। আজ দেখাবে। তারপর মা আর খালা মিলে ওই বাসায় প্রস্তাব নিয়ে যাবে। ভাইয়ার যে যোগ্যতা, যে কোনো বাবা-মা লুফে নেবে। -তাই বুঝি? ছাদে গিয়ে তোর ভাই বুঝি পরির প্রেমে পড়েছে? তাইলে আজ বিকালে তোরা ছাদে আসবি? -হ্যাঁ, দেখি কোন সে পরি? আমার অবশ্য একজনকে সন্দেহ হচ্ছে। -কেরে? -না থাক, পরে বলব। দেখি আগে আমার অনুমান মেলে কিনা? -আচ্ছা, পরেই বলিস। -ছাদে উঠিস, দেখা হবে। -ওকে, ডিয়ার। যে যার বাসায় চলে গেল। -এ কি আপুনি তুমি আবার ওই শাড়িটাই পরলে? -খুব সুন্দর শাড়িটা। মনে হলো, আর একবার পরি। -তাহলে তো ভালোই হলো, চিনতে সুবিধা হবে। -তুই কী বললি? না তুই কী বললি, বল? -আমি কিছুই বলিনি। -এষাপু, আজও কিন্তু ছাদে যাব। -ঠিক আছে। পলা ওর খালামণি আর মাকে নিয়ে ছাদে উঠল। আর এইদিকে ইমাও বুদ্ধি করে ওর মাকেও ছাদে নিয়ে এসেছিল।

 কারণ ও তো পুরোপুরিই বুঝে গিয়েছিল। পলা ইমাকে ডাকল। ওদের সবার সঙ্গেই কথা হলো। শুধু এষা কোনো কথা বলেনি। ওর কেমন যেন লজ্জা পাচ্ছিল। লোকটা কেমন করে বারবার শুধু ওকেই দেখছিল। যদিও লোকটা খুবই সুদর্শন দেখতে। পরের দিনই পলা ওর মা আর খালাকে নিয়ে হাজির। ইমা যদিও ওর মা-বাবাকে কিছুটা আভাস দিয়ে রেখেছিল। সত্যিই ওরা প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল। পলার কাজিন জাপানেরই একটি ব্যাংকে আছে। বেশ ভালোই অবস্থা। ছেলের বাবাও ওখানে ব্যবসা করে।