এলার্জি হলে কি ওষুধ খেতে হবে
এলার্জি হলে কী ধরনের ওষুধ খেতে হবে, তা নির্ভর করে এলার্জির ধরন, উপসর্গের তীব্রতা, ও আপনার শরীরের প্রতিক্রিয়ার ওপর। তবে সাধারণত নিচের ওষুধগুলো এলার্জির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়:
১. অ্যান্টিহিস্টামিন (Antihistamines):
কাজ: এলার্জির ফলে শরীরে নিঃসৃত হিষ্টামিন নামক কেমিক্যাল প্রতিরোধ করে উপসর্গ (চুলকানি, হাঁচি, চোখ পানি পড়া, নাক বন্ধ হওয়া) কমায়।
উদাহরণ:
-
Cetirizine (সিটিরিজিন) – যেমন: Alergin, Citra
-
Loratadine (লোরাটাডিন) – যেমন: Lorin, Lora
-
Fexofenadine – যেমন: Fexo, Telfast
-
Chlorpheniramine – যেমন: Histacin (ঘুম ভাব বেশি হয়)
ডোজ: সাধারণত দিনে ১ বার; তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।
২. লিউকোট্রাইন ইনহিবিটর (Leukotriene Inhibitors):
কাজ: হিষ্টামিন ছাড়াও অন্যান্য উপাদান যেগুলো এলার্জি বাড়ায়, সেগুলোকেও নিয়ন্ত্রণ করে।
উদাহরণ:
-
Montelukast (মন্টেলুকাস্ট) – যেমন: Monas, Montair
-
প্রায়ই অ্যান্টিহিস্টামিনের সঙ্গে একত্রে দেওয়া হয় (যেমন: Monas-L)
৩. ডিকনজেস্ট্যান্ট (Decongestants):
কাজ: নাক বন্ধ ও সাইনাসের চাপ কমায়।
উদাহরণ:
-
Pseudoephedrine (Oral)
-
Nasal spray: Oxymetazoline (nasal drop/spray)
সতর্কতা: বেশি দিন ব্যবহার করলে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
৪. স্টেরয়েড (Steroids):
কাজ: তীব্র এলার্জি বা চর্মরোগে প্রদাহ কমাতে ব্যবহার হয়।
উদাহরণ:
-
Prednisolone (খাবার মতো স্টেরয়েড, শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে)
-
Betamethasone বা Hydrocortisone (ত্বকে লাগানোর মলম)
৫. এপিনেফ্রিন (Epinephrine Auto-injector):
অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজনে:
-
যদি এলার্জিক শক (Anaphylaxis) হয় – যা প্রাণঘাতী হতে পারে।
-
Epipen নামে পরিচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার নয়।
সতর্কতা:
-
সব সময় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়।
-
কারো কারো অ্যান্টিহিস্টামিনে ঘুম ভাব, মুখ শুকানো বা মাথা ঝিমঝিম করতে পারে।
-
গর্ভবতী বা শিশুদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ওষুধই গ্রহণযোগ্য।

No comments:
Post a Comment
ok