7 May 2025

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কেমন

অগ্রগতি ও অর্জন



  1. জীবন প্রত্যাশা ও শিশু-মাতৃমৃত্যু হ্রাস: বাংলাদেশে গড় আয়ু বেড়ে প্রায় ৭৩ বছরে পৌঁছেছে। ২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে শিশু মৃত্যুহার প্রতি ১,০০০ জীবিত জন্মে ৭৬ থেকে ২৫-এ নেমে এসেছে, এবং মাতৃমৃত্যু হার ৩২২ থেকে ১৮১-এ কমেছে ।

  2. টিকা ও রোগ নির্মূল: কোভিড-১৯ মহামারির সময় সফল টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতের তুলনায় কম মৃত্যুহার বজায় রাখতে পেরেছে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে কালা-আজার ও লিম্ফাটিক ফাইলারিয়াসিস নির্মূল করেছে ।

  3. কমিউনিটি ক্লিনিক: বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪,২০০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু আছে, যা গ্রামীণ জনগণের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ।

  4. ওষুধ শিল্প: বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে, বর্তমানে ১৪৫টিরও বেশি দেশে ওষুধ রপ্তানি করা হচ্ছে ।


 চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা

  1. স্বাস্থ্য বাজেট ও খরচ: স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বাজেট বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ২.৩৪%–২.৬৪%, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন। ফলে প্রায় ৬৭% স্বাস্থ্য ব্যয় রোগীদের নিজস্ব খরচে (out-of-pocket) বহন করতে হয় ।

  2. মানসম্পন্ন সেবার অভাব: সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে চিকিৎসার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব লক্ষ্য করা যায় ।

  3. মানবসম্পদের ঘাটতি: বাংলাদেশে প্রতি ১০,০০০ জনে মাত্র ৫ জন চিকিৎসক ও ১.৫ জন নার্স রয়েছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম ।

  4. নগর ও গ্রামীণ বৈষম্য: স্বাস্থ্যসেবায় নগর ও গ্রামীণ অঞ্চলের মধ্যে বৈষম্য বিদ্যমান। শহরাঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার কাঠামো দুর্বল, এবং গ্রামীণ অঞ্চলে বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা সীমিত ।

  5. অসংক্রামক রোগের বোঝা: বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৬৭% অসংক্রামক রোগ যেমন হৃদরোগ, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ইত্যাদির কারণে ঘটে, কিন্তু এ খাতে বরাদ্দ মাত্র ৪.২% ।

No comments:

Post a Comment

ok