বর্তমান অবস্থা
-
সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা যেমন টিকা, মাতৃসেবা ও কিছু সাধারণ চিকিৎসা বিনামূল্যে প্রদান করে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগীদের ওষুধ, পরীক্ষা ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য নিজ খরচে ব্যয় করতে হয়।
-
স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের বড় অংশ জনগণকে নিজ পকেট থেকে বহন করতে হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশের জনগণের প্রায় ২৫% স্বাস্থ্যসেবা খরচের কারণে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত।
চলমান উদ্যোগ ও পরিকল্পনা
-
স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন দেশের দরিদ্রতম ২০% জনগণকে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের প্রস্তাব করেছে। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫% পর্যন্ত বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে। (
স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি (SSK) একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলায় চালু হয়েছে, যেখানে ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ডের মাধ্যমে অতি দরিদ্র পরিবারগুলো ৭০ ধরনের রোগের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে। এই কর্মসূচি ধাপে ধাপে সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি
-
বিএনপি ২০২৫ সালে ঘোষিত তাদের রূপরেখায় যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (NHS) মডেলের আদলে সবার জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫% বরাদ্দের কথা বলেছে।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (Universal Health Coverage) অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারি বাজেট বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য খাতের কাঠামোগত সংস্কার এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment
ok